মেলবোর্ন,১ নভেম্বর-চীনের উদ্যোগে অবশেষে মিয়ানমারের উত্তরে চলমান সংঘাত কমানোর লক্ষ্যে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে দেশটির প্রধান তিনটি বিদ্রোহীগোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার ইউনান প্রদেশের কুনমিং শহরে অনুষ্ঠিত এক গোপন বৈঠকে এই চুক্তি সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত এক বছরে মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলে সামরিক জান্তা ও বিদ্রোহী জোট “থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্স”–এর মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে শতাধিক বেসামরিক মানুষ নিহত এবং হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। চীনের সীমান্ত ঘেঁষা এলাকায় সংঘাত তীব্র হওয়ায় বেইজিং দীর্ঘদিন ধরেই শান্তি প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে চাপ দিচ্ছিল।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান এক বিবৃতিতে বলেন,
“মিয়ানমারের সব পক্ষ শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে স্থিতিশীলতার পথে ফিরতে সম্মত হয়েছে। চীন এই প্রক্রিয়ায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে।”
চুক্তি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে আগামী সপ্তাহ থেকে। উভয় পক্ষ সীমান্তবর্তী শহর মিউসে ও লাউকাই অঞ্চলে গোলাগুলি বন্ধে সম্মত হয়েছে। এছাড়া, মানবিক সহায়তা প্রবাহের জন্য নিরাপদ করিডর খোলারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
থ্রি ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের মুখপাত্র তা ইং বলেন,
“আমরা শান্তি চাই, তবে আমাদের জনগণের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যুদ্ধবিরতি কেবল প্রথম ধাপ।”
জাতিসংঘ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোট আসিয়ান (ASEAN) এ চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা বলছে, এই পদক্ষেপ মিয়ানমারের রাজনৈতিক সংকট সমাধানের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
মিয়ানমারে ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে দেশজুড়ে চলমান সহিংসতা এখনো থামেনি। চীনের এই মধ্যস্থতা দীর্ঘদিন ধরে অচলাবস্থায় থাকা শান্তি প্রক্রিয়ায় নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে বিশ্লেষকদের মত।