চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ উঁচু ভবন ‘সিটিক টাওয়ারে’ একটি বিমান আঘাত হেনেছে।ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৭ জুন- চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের ১০৯ তলা বিশিষ্ট সিটিক টাওয়ারে (চায়না জুন) একটি ছোট বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনার পরপরই ভবনটি খালি করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় সেখানে অবস্থানরত মানুষদের। ঘটনাস্থলে দ্রুত দমকল বাহিনী, পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম শুরু করে কর্তৃপক্ষ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ভবনের ওপর আঘাত হানার পর উপরের অংশ থেকে ধ্বংসাবশেষ নিচে পড়ে। ভবনের নিচে বিমানের লেজের একটি অংশ এবং ক্ষতিগ্রস্ত একটি ট্যাক্সিক্যাবও দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পর আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হয়।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও বিমানটির মালিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। বিমানে কতজন আরোহী ছিলেন, সেটি কোথা থেকে উড্ডয়ন করেছিল কিংবা কী কারণে ভবনে আঘাত হেনেছে, সে বিষয়েও এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিমানের নিবন্ধন নম্বর বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে, এটি চীনে তৈরি সানওয়ার্ড এসএ-৬০এল অরোরা মডেলের একটি হালকা স্পোর্টস বিমান। বিমানটি একটি স্থানীয় জেনারেল এভিয়েশন কোম্পানির মালিকানাধীন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
বিমান পর্যবেক্ষণ সংস্থা ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার আগে বিমানটির উড্ডয়নপথ স্বাভাবিক রুট থেকে বিচ্যুত হয়েছিল। তবে এটি যান্ত্রিক ত্রুটি, নিয়ন্ত্রণ হারানো নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১ মে থেকে বেইজিংয়ে নতুন নিরাপত্তা বিধি কার্যকর হয়েছে। ওই বিধি অনুযায়ী সরকারি অনুমতি ছাড়া ড্রোন কেনা, ভাড়া নেওয়া বা উড়ানো কার্যত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এই বিমান দুর্ঘটনার পর রাজধানীর আকাশপথের নিরাপত্তা ও বেসামরিক উড্ডয়ন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট