রাজধানী দার-এস-সালামে প্রায় ৩৫০ জন এবং মওয়াঞ্জা শহরে ২০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১ নভেম্বর- আফ্রিকার দেশ তানজানিয়ায় বিতর্কিত নির্বাচনের পর ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। বিরোধী দল চাদেমার দাবি, এ পর্যন্ত সারা দেশে অন্তত ৭০০ জন নিহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহতের সংখ্যা ১০ জন। শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) আলজাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
চাদেমা দলের মুখপাত্র জন কিতোকা এএফপিকে বলেন, রাজধানী দার-এস-সালামে প্রায় ৩৫০ জন এবং মওয়াঞ্জা শহরে ২০০ জনের বেশি নিহত হয়েছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাওয়া তথ্য যুক্ত করলে মৃতের সংখ্যা প্রায় ৭০০-তে দাঁড়ায়। তিনি জানান, দলের কর্মীরা সারাদেশের হাসপাতাল ঘুরে এই পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেছেন।
এএফপির এক নিরাপত্তা সূত্রও এই তথ্যের সঙ্গে মিল রেখে একই ধরনের দাবি করেছে। তবে আলজাজিরা জানিয়েছে, নিহতের সঠিক সংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তানজানিয়ার সরকার এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সংখ্যা প্রকাশ করেনি। শুধু জানানো হয়েছে, বিচ্ছিন্ন সহিংসতার পর নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের মুখপাত্র সেইফ মাগাঙ্গো শুক্রবার জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য সূত্র থেকে খবর এসেছে যে, নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা নিরাপত্তা বাহিনীকে অতিরিক্ত বা অপ্রয়োজনীয় শক্তি প্রয়োগ না করার আহ্বান জানিয়েছি। বিশেষ করে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে ও পরিস্থিতি শান্ত রাখতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাতে অনুরোধ করেছি।
আলজাজিরা জানায়, বুধবার (২৯ অক্টোবর) দার-এস-সালামে প্রথম বিক্ষোভ শুরু হয়। ভোটদান প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধ এবং প্রধান বিরোধী দলগুলোকে নির্বাচন থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সীমিত ভোটের বিকল্প এবং বিরোধী নেতাদের হয়রানির প্রতিবাদে সড়কে নেমে আসে।
সহিংসতায় বেশ কিছু গাড়ি, একটি পেট্রোল স্টেশন এবং কয়েকটি পুলিশ স্টেশন পুড়িয়ে দেওয়া হয়। শুক্রবারও তৃতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ চলতে থাকে, যেখানে বিক্ষোভকারীরা জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফলাফল ঘোষণার দাবি স্থগিতের আহ্বান জানায় এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।