মেলবোর্ন, ২ নভেম্বর- সুদানের উত্তর দারফুর অঞ্চলের রাজধানী এল-ফাশের (El-Fasher) থেকে চলমান সংঘর্ষের কারণে ৬০ হাজারের বেশি বাসিন্দা পালিয়ে গেছে, এমন তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (UNHCR)। গত কয়েক সপ্তাহে সরকারি বাহিনী ও আধাসামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (RSF)-এর মধ্যে তীব্র লড়াইয়ের ফলে শহরটি কার্যত মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এল-ফাশের বর্তমানে “পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর”-এ পরিণত হয়েছে। খাদ্য, পানি ও চিকিৎসা সামগ্রীর সংকট চরমে, এবং হাজার হাজার মানুষ আশ্রয়ের খোঁজে শহর ছেড়ে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ও চাদ সীমান্তের দিকে পালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয় সংস্থা (OCHA) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, এবং হাসপাতালগুলো কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এক বিবৃতিতে বলেন, “এল-ফাশের থেকে ৬০ হাজারের বেশি মানুষের পালিয়ে যাওয়া শুধু একটি সংখ্যা নয়,এটি একটি বিপর্যয় unfolding in real time।” তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি দ্রুত যুদ্ধবিরতি ও মানবিক করিডর খোলা না হয়, তবে “দারফুরে গণবিপর্যয়” ঘটবে।
এল-ফাশের ছিল উত্তর দারফুরের অন্যতম বাণিজ্যিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র। গত ছয় মাসে শহরটি RSF ও সরকারি সেনাদের মধ্যে সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহে RSF বাহিনী শহরের কিছু অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) জানিয়েছে, পালিয়ে যাওয়া মানুষের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। তারা নিরাপদ আশ্রয়ের পাশাপাশি খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে ভুগছে। অনেক পরিবার দিন-রাত হাঁটছে সীমান্ত পার হওয়ার আশায়।
একটি পরিবারকে উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, “আমাদের ঘর পুড়ে গেছে, আমরা হাতে শুধু কিছু কাপড় নিয়ে পালিয়েছি।”
জাতিসংঘসহ বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন দ্রুত অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তার পথ খুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখায়নি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত ১ কোটি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে, যা বিশ্বের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি সংকটগুলোর একটি।
সুদানের এল-ফাশের শহর থেকে ৬০ হাজারের বেশি মানুষ জীবন বাঁচাতে পালিয়ে গেছে। জাতিসংঘের মতে, মানবিক সহায়তা ব্যাহত থাকলে দারফুর অঞ্চল নতুন করে এক ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়বে।