ভিক্টোরিয়া রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্টা অ্যালান আজ এক ঘোষণায় এই কঠোর আইন সংস্কারের উদ্যোগ প্রকাশ করেছেন। ছবিঃ নাইন নিউজ
মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে ১৪ বছর বয়সী কিশোররাও এখন থেকে প্রাপ্তবয়স্কদের মতো শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে। রাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্টা অ্যালান আজ এক ঘোষণায় এই কঠোর আইন সংস্কারের উদ্যোগ প্রকাশ করেছেন। “অ্যাডাল্ট টাইম ফর ভায়োলেন্ট ক্রাইম” নামে নতুন এই আইন প্রস্তাবটি কুইন্সল্যান্ডের তরুণ অপরাধ দমনের মডেল অনুসারে তৈরি করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভিক্টোরিয়ায় কিশোর অপরাধের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অ্যালানের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। অনেকেই দাবি করেন, রাজ্যজুড়ে কার্যত অপরাধের ঢেউ চলছে। সেই প্রেক্ষিতেই সরকার এই নতুন আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে।
নতুন আইনের আওতায় ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী কিশোর যদি গুরুতর সহিংস অপরাধে জড়িত হয়, যেমন বাড়িতে হামলা বা গাড়ি ছিনতাই, তাহলে তাদের বিচার হবে প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে। শিশু আদালতে এসব অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলেও, প্রাপ্তবয়স্ক আদালতে একই অপরাধের শাস্তি সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।
নতুন আইনে যে সব অপরাধে কিশোর অপরাধীদের প্রাপ্তবয়স্কদের মতো কারাদণ্ড দেওয়া যাবে, সেগুলো হলো—
- গুরুতর বাড়িঘরে হামলা (Aggravated home invasion)
- বাড়িঘরে হামলা (Home invasion)
- ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করা (যেমন মাশেটি বা ধারালো অস্ত্র ব্যবহার)
- ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বেপরোয়াভাবে আঘাত করা
- গুরুতর আঘাত করে গাড়ি ছিনতাই
- গাড়ি ছিনতাই
- পুনরাবৃত্ত বা গুরুতর সশস্ত্র চুরি
- পুনরাবৃত্ত বা গুরুতর অস্ত্রধারী ডাকাতি
প্রধানমন্ত্রী জাসিন্তা অ্যালান বলেন, “এই আইনগুলোর লক্ষ্য হলো সহিংস কিশোরদের নিয়ন্ত্রণ করা এবং সমাজকে আরও নিরাপদ করা।” তার ভাষায়, পুলিশের এখন নতুন ধরনের সহিংস অপরাধের মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যার মোকাবিলায় প্রয়োজন নতুন হস্তক্ষেপমূলক ব্যবস্থা।
সরকার এই সপ্তাহেই নতুন আইনটি পার্লামেন্টে উপস্থাপন করবে, এবং বছরের শেষের আগে তা কার্যকর করার লক্ষ্য নিয়েছে।
তবে আইনজীবীদের একাংশ এই প্রস্তাবের সমালোচনা করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে পারে। মেলবোর্নের খ্যাতনামা আইনজীবী ম্যাট কলিন্স কেসি (KC) স্থানীয় রেডিও 3AW-কে বলেন, “আমার উদ্বেগ হলো, যখন নির্দিষ্ট অপরাধের জন্য আলাদা নিয়ম তৈরি করা হয়, তখন তা আমাদের বিচারব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যকারিতায় হস্তক্ষেপ করে।”
এই আইন নিয়ে রাজ্যে ইতিমধ্যেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। সমর্থকরা বলছেন, এটি সমাজে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে। সমালোচকরা বলছেন, এটি কিশোরদের পুনর্বাসনের বদলে তাদের অপরাধীর কাতারে ঠেলে দেবে।
সুত্রঃ নাইন নিউজ