মেলবোর্ন, ১৩ নভেম্বর- অ্যাগারগাঁওসহ শহরের বিভিন্ন প্রান্ত posters ও ব্যানারে ঢাকা পড়ার দৃশ্য নিয়ে শনিবার সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, যদি এসব পোস্টার তৎপর সময়ে অপসারণ না করা হয় তাহলে নির্বাচন কমিশন কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তিনি বলেন, নির্বাচনকে স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণ রাখার স্বার্থে শহর পরিপাটি রাখা জরুরি এবং আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কমিশন বাধ্য হবে।
নির্বাচন কমিশনের নতুন কোড অব কন্ডাক্টে পোস্টার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে প্রকাশ করেছে কমিশন। কোড অনুযায়ী পোস্টার ব্যবহার না করে ব্যানার, বিলবোর্ড এবং সীমিত মাত্রায় ফেস্টুন ব্যবহার করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কাগজপত্রে প্রকাশিত গেজেটে এসব বিধান উঠে এসেছে এবং লঙ্ঘিত হলে জরিমানা ও কারাদণ্ডের মতো শাস্তির উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশন বলেছে পোস্টারবিহীন প্রচারণা নিশ্চিত করতে তারা মাঠ পর্যায়ে কঠোর তদারকি করবে।
তবে শহরের রাস্তাঘাট, বাণিজ্যিক ভবন এবং কেন্দ্রীয় ব্লকগুলোতে রাজনৈতিক পোস্টার ও পোস্টার-খচিত দেয়াল এখনও চোখে পড়ছে। অর্ধরাতের পরেও বিভিন্ন দলের ব্যানার ও পোস্টার সরিয়ে নেওয়ার আদেশ কার্যকর করতে উদ্যোগ নিলেও বাস্তবে অপসারণ ধীরগতির। সিটি কর্পোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষরা বলছেন, সরকারি-অধিকৃত স্থান কিংবা ব্যক্তিগত সম্পত্তি থেকে অবৈধভাবে ফেস্টুন, পোস্টার ও প্ল্যাকার্ড সরাতে অভিযান জোরদার করা হচ্ছে, কিন্তু নগরজীবনের বাস্তবতায় পুরোপুরি মুক্তি পেতে সময় লাগবে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, পোস্টার নিষিদ্ধতা মেনে চলাতে তারা রিটার্নিং অফিসারদেরকে স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিং বাড়াতে নির্দেশ দিয়েছে এবং ভ্রাম্যমান টিম গঠন করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা দলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা দর্শানো হয়েছে। একই সঙ্গে কমিশন বলছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা ও ডিজিটাল কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণেও নতুন নিয়ম চালু করা হবে যাতে পারস্পরিক অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো না যায়।
রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিক্রিয়া আলাদা। বড় কোনো দলের শীর্ষ বলছেন, পোস্টার নিয়ন্ত্রণে সম্মত আছি, কিন্তু বাস্তবে প্রচারণার সীমা নির্ধারণ এবং প্রতিপক্ষের একতরফা সুবিধা ঠেকানো- এসব বিষয় স্পষ্ট না হলে সমঝোতা কঠিন হবে। কয়েকটি ক্ষুদ্র দল ও স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী বলছে, পোস্টারের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করলে Grassroots পর্যায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ কমে যেতে পারে। নির্বাচনী তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষতা ও সমান অবসর্গ নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য বলে তারা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, পোস্টার অপসারণ ও প্রচারণা নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত ভোটের পরিবেশকে পরিমিত করবে বলে আশা করা যায়, কিন্তু কাজটি সুষ্ঠুভাবে করার জন্য মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা, স্বচ্ছ প্রতিযোগিতা এবং সমস্ত দলের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। তারা একটি ব্যাপক মনিটরিং ব্যবস্থা, নিয়মিত পদক্ষেপ এবং নাগরিক সহযোগিতাকে কাজে লাগাতে বলছেন, নাহলে কেবল নির্দেশ জারি করেই শহর থেকে পোস্টারের অবাধ উপস্থিতি কমবে না।