নোবেলজয়ী মারিয়া মাচাদো। ছবি: সংগৃহীত
১০ মাসেরও বেশি সময় নির্বাসনে থাকার পর নিজ দেশ ভেনেজুয়েলায় ফিরেছেন বিরোধী দলের শীর্ষ নেত্রী ও নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো। বারবার দেশে ফেরার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর রোববার (২৫ অক্টোবর) তিনি মাতৃভূমিতে পৌঁছান। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের দেশে ফেরার বিষয়টি জানান তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে ফেরার পর মাচাদো ভেনেজুয়েলার লারা রাজ্যের একটি গির্জায় তাঁর সমর্থকদের সঙ্গে দেখা করেন। পরে সমর্থকদের গাড়িবহর নিয়ে তিনি রাজধানী কারাকাসের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। তাঁর রাজনৈতিক দল এই প্রত্যাবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে নোবেল শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য নরওয়ে যাওয়ার পর রাতে স্পিডবোটে করে ভেনেজুয়েলা ছাড়েন মাচাদো। এরপর ১০ মাসেরও বেশি সময় তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন।
মাচাদো ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের অন্যতম প্রধান বিরোধী নেতা। প্রাথমিক নির্বাচনে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হলেও মাদুরো সরকার তাঁকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেয়নি। এ কারণে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁর ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে।
মাচাদো দেশ ছাড়ার প্রায় এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপে নিকোলাস মাদুরো ক্ষমতাচ্যুত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর ভেনেজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা এবং রাজনৈতিক সমঝোতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওয়াশিংটন দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কয়েকজন প্রভাবশালী বিরোধী নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও মাচাদো ও এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়াকে বাইরে রাখা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, মাচাদোর দেশে ফেরার পথ তৈরি হওয়া এবং তাঁর নিরাপত্তার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় পরিচালিত রাজনৈতিক সমঝোতা আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাঁর নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার বিষয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, মাচাদোর রাজনৈতিক মিত্র এডমুন্ডো গঞ্জালেজ উরুতিয়া তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ভেনেজুয়েলায় অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আয়োজনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভবিষ্যতে সুষ্ঠু নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হলে মাচাদো আবারও প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মাচাদোর দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন কোনো পরিবর্তন আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের। তবে তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
সুত্রঃ বিবিসি