লক্ষ্মীপুরে মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গণপিটুনিতে নিহত হামলাকারী
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক ব্যক্তি। পরে ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন…
মেলবোর্ন, ২১ নভেম্বর- পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী টানা দুই দিন ধরে বিস্তৃত সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান চালিয়েছে। এসব অভিযানে নিহত হয়েছে নিষিদ্ধ গোষ্ঠী তেহরিক ই তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) অন্তত ৩০ সদস্য। বৃহস্পতিবার দেশটির সেনাবাহিনীর আন্তঃবিভাগ সংযোগ দপ্তর আইএসপিআর এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
আইএসপিআর জানায়, ১৮ ও ১৯ নভেম্বর, সোমবার এবং মঙ্গলবার খাইবার পাখতুনখোয়ার লাক্কি মারওয়াত, মোহামান্দ, টাঙ্ক এবং কুররম এই চার জেলায় পৃথক কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মধ্যে কুররম জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানে একক অঞ্চলেই ১২ জন টিটিপি সদস্য নিহত হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই বিস্তৃত অভিযান পরিচালিত হয় এবং নিহত সন্ত্রাসীরা টিটিপির দুটি সক্রিয় গ্রুপের সদস্য।
পাকিস্তান সেনাবাহিনী টিটিপিকে ফিৎনা আল খারিজি নামে অভিহিত করেছে। আইএসপিআর বলছে, সাম্প্রতিক সময়কার বেশ কয়েকটি হামলার উৎস শনাক্ত করার পরই সন্ত্রাসীদের লুকিয়ে থাকা স্থানে নতুন করে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
আফগানিস্তানে ২০২১ সালে তালেবান সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই পাকিস্তানের দুটো সীমান্তবর্তী প্রদেশ খাইবার পাখতুনখোয়া এবং বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী তৎপরতা নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। খাইবার পাখতুনখোয়া দীর্ঘদিন ধরে টিটিপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে বেলুচিস্তানে সক্রিয় বালোচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত। উভয় সংগঠনই পাকিস্তান সরকারের নিষিদ্ধ তালিকায় রয়েছে।
ইসলামাবাদভিত্তিক থিংকট্যাংক সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ২০২৫ সালের ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে জড়িত সহিংসতা বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। সিআরএসএসের হিসেবে, এই সময়ে সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট ৩২৯টি সহিংস ঘটনা রেকর্ড হয়েছে। এসব ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯০১ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৯৯ জন।
পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় পুলিশ বিভাগের আরেক প্রতিবেদন বলছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত শুধু খাইবার পাখতুনখোয়াতেই সন্ত্রাসীদের হামলার সংখ্যা ছয় শতাধিক। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন ৭৯ জন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য এবং ১৩৮ জন বেসামরিক নাগরিক।
সাম্প্রতিক এই সহিংসতা পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। দেশের সীমান্ত এলাকা থেকে শুরু করে জনবহুল প্রদেশগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইএসপিআর জানিয়েছে, সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
তথ্যসূত্র: জিও নিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au