সময়ের খেয়া
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- ইতিহাসের পাতা উল্টালে প্রথমেই যে নামটা জ্বলজ্বল করে ওঠে, সে নাম—বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। রোজ গার্ডেনে জন্ম নেওয়া একটা…
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- বাংলাদেশের তিস্তাসহ বিভিন্ন নদীর ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং পানিসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে একমত হয়েছে বাংলাদেশ ও চীন। এ লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে কারিগরি সহযোগিতা, গবেষণা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে রাষ্ট্রীয় দিয়াওইউতাই অতিথি ভবনে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশটির পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়োইংয়ের বৈঠকে এসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নদীনির্ভর অর্থনীতি, বন্যা ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় চলমান বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পানিসম্পদের কার্যকর ব্যবস্থাপনার জন্য বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন নদী পুনঃখনন ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে এ প্রকল্পে চীনের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নদীর উন্নয়ন, পানি প্রবাহ ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই নদী শাসনে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহের কথাও জানান।
জবাবে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী লি গোয়োইং বাংলাদেশকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা খাতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতামূলক সম্পর্ক রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৫ সালে দুই দেশের মধ্যে পানিসম্পদ খাতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। পাশাপাশি গত বছর চীনের বিশেষজ্ঞদের বাংলাদেশ সফরও দুই দেশের সহযোগিতাকে আরও এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছে।
লি গোয়োইং বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সহযোগিতা বাস্তবভিত্তিক এবং গবেষণানির্ভর। এ ধরনের অংশীদারত্ব দুই দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নদীভাঙন রোধ, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য আধুনিক সেচব্যবস্থা সম্প্রসারণ এবং নৌপথে যোগাযোগ ও বাণিজ্য সহজ করতে নৌ-নেভিগেশন উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, বৃহৎ নদী ব্যবস্থাপনা, বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং পানি সম্পদের টেকসই ব্যবহারে চীনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ চাইলে এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। তিনি বাংলাদেশের পানিবিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চীনে প্রশিক্ষণ গ্রহণের আহ্বান জানান, যাতে তারা আধুনিক প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে আরও দক্ষতা অর্জন করতে পারেন।
বৈঠকের শেষে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে চীনের পানিসম্পদমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে একটি বই তুলে দেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, তিস্তা ব্যবস্থাপনা প্রকল্পসহ নদীকেন্দ্রিক বিভিন্ন উন্নয়ন উদ্যোগে চীনের সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ, সেচব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং নৌপথ উন্নয়নের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au