বেন গিভিরের ওপর ক্ষোভ, দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন আরব বেদুঈনরা
ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গিভিরের ওপর ক্ষোভ থেকে ভোট দিতে দলে দলে ভোটকেন্দ্রে যাচ্ছেন দেশটির আরব বেদুঈন সম্প্রদায়ের বাসিন্দারা। সরকারের নীতির প্রতি অসন্তোষ এবং…
মেলবোর্ন, ২৪ নভেম্বর- সিরাজগঞ্জ জেলা শহরের থানার পাশের সর্দারপাড়া ও ভাঙ্গাবাড়ি মহল্লায় টানা তিন দিন ধরে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা চলছে। গত শুক্রবার পদ্মার পাড়া এলাকার এক যুবককে মারধরের জেরে শুরু হওয়া বিরোধ রোববারও থামেনি। সংঘর্ষের কারণে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিয়মিত কাজকর্ম, স্কুল কলেজে যাওয়া, হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সবকিছুই যেন বাধাগ্রস্ত।
ইতিমধ্যে দুই মহল্লার অন্তত অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তাদের সিরাজগঞ্জ শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল এবং বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। থানার গা ঘেঁষা এলাকায় সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে পুলিশও বিপাকে পড়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে পুলিশের সক্ষমতা নিয়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী জোয়ার্দার এবং জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজের অনুসারীদের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। এর সূত্র ধরে শুক্রবার সন্ধ্যায় সদর থানা মোড় ও পাসপোর্ট অফিস সড়কে দুই পক্ষই লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। মাঝেমধ্যে বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি।
শনিবার সকালে আবার সংঘর্ষ শুরু হয় পাসপোর্ট অফিস সড়কে। দুপুরের দিকে তা ছড়িয়ে পড়ে থানা রোডের পাশে আব্দুল মান্নান রোডে। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে এলাকা কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
রোববার সকালেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি। বেলা ১১টার দিকে পাসপোর্ট অফিস রোড ও আব্দুল মান্নান রোডে আবার সংঘর্ষ শুরু হয়। অফিস সময় ও পরীক্ষার দিনে সংঘর্ষের কারণে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, রোগীসহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ে। সংঘর্ষের মধ্যে পাসপোর্ট অফিস রোডের একটি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। তিন দিনের এই উত্তেজনায় সর্দারপাড়া, ভাঙ্গাবাড়ি, চিড়ার মিল, থানা রোড ও আশপাশের এলাকাজুড়ে ভয় কাজ করছে। রোববারের সংঘর্ষে আরও ২০ জন আহত হয়েছে।
এক নম্বর ট্রাফিক ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর তাজমিলুর রহমান বলেন, সদর থানা পুলিশের পাশাপাশি তারাও মাঠে রয়েছেন পরিস্থিতি সামাল দিতে।
সদর থানার ওসি মোকলেসুর রহমান জানান, এলাকা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রচুর পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে আছে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী জোয়ার্দার বলেন, ভাঙ্গাবাড়ির লোকজন পুলিশের সামনে রামদা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, অথচ পুলিশ নীরব থেকেছে। তাদের অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি জানান, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ এবং বিএনপি নেতারা সোমবার বিকেলে হোসেনপুরে মীমাংসা বৈঠকে বসার জন্য তাদের ডেকেছেন।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি জুনায়েদ হোসেন সবুজ বলেন, মুক্তিযোদ্ধা গলিতে বিরিয়ানি হাউসের ভেতর কয়েকজন যুবকের মারামারি থেকে বিরোধের সূত্রপাত। পরে তা দুই পক্ষের বড় সংঘর্ষে রূপ নেয়। তাদের পক্ষেও ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। মীমাংসার জন্য ইএনও তাদের ডাক দিয়েছেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনোয়ার হোসেন বলেন, টানা কয়েক দিনের সংঘর্ষে পুলিশ ও প্রশাসন বিব্রত। উভয় পক্ষকে সোমবার অফিসে ডেকে সমাধান করার চেষ্টা চলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au