নীলফামারীতে হিন্দু যুবক শ্যামল শর্মাকে পিটিয়ে হত্যা
নীলফামালীর ডোমারে শ্যামল শর্মা (৩৮) নামে এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) গভীর রাতে উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের নীলাহাটি গ্রামে এ ঘটনা…
বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের ওপর ব্রিটিশ সরকার চাপ সৃষ্টি করেছিল বলে দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের কনজারভেটিভ পার্টির সংসদ সদস্য বব ব্ল্যাকম্যান। তাঁর দাবি, দুর্গাপূজার আগে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এ ছাড়া বাংলাদেশে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতেও ব্রিটিশ সরকার চাপ দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বব ব্ল্যাকম্যান এসব দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ড ও জনতার হামলার ঘটনা নিয়ে তাঁর করা একটি লিখিত প্রশ্নের জবাবে চলতি মাসে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
ব্ল্যাকম্যানের দাবি, গত ৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। ওই বৈঠকে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সংঘটিত সহিংসতার বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। পাশাপাশি দুর্গাপূজার সময় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নিরাপদ বোধ করেন, তা নিশ্চিত করার বিষয়েও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
ব্রিটিশ এই সংসদ সদস্যের পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর বাংলাদেশের দুর্গাপূজা ঘিরে সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং এর পেছনে যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক তৎপরতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ব্রিটিশ সরকারের কথিত চাপের বিষয়ে বাংলাদেশের সরকার বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা উল্লেখ করেননি ব্ল্যাকম্যান।
এবার বাংলাদেশে দুর্গাপূজা তুলনামূলক শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা হয়েছে। পূজার আগে ও চলাকালে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা, সরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে। তবে দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পদক্ষেপের সঙ্গে ব্রিটিশ সরকারের কথিত চাপের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এই পোস্টে দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশ সরকার এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সাধারণ ছুটি এক দিন থেকে বাড়িয়ে তিন দিন করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি পূজা উদযাপনে সরকারি অনুদানের সঙ্গে অতিরিক্ত এক কোটি টাকা বরাদ্দ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ঢাকার একাধিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও রংপুরের বিভাগীয় শহরেও পূজামণ্ডপে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশের কোনো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রথমবারের মতো ঢাকার বাইরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন।
তবে এসব উদ্যোগ ব্রিটিশ সরকারের চাপের ফলেই নেওয়া হয়েছিল, এমন কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ বব ব্ল্যাকম্যান তাঁর পোস্টে প্রকাশ করেননি। তাঁর বক্তব্য মূলত ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে করা প্রশ্নের জবাব এবং হাইকমিশনারের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের বিষয়ে তাঁর বর্ণনার ওপর ভিত্তি করে দেওয়া হয়েছে।
ব্ল্যাকম্যান আরও জানান, বাংলাদেশে সংঘটিত সহিংসতার ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাজ্য। তাঁর মতে, শুধু উদ্বেগ প্রকাশ করাই যথেষ্ট নয়; সহিংসতার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার এবং বিচারের মাধ্যমে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে গ্লোবাল সনাতন লিডার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাভাষী মানবাধিকারকর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করেছেন। এ ছাড়া ১৫ অক্টোবর পার্লামেন্টের ‘বিজনেস কোয়েশ্চনস’ অধিবেশনেও বিষয়টি উত্থাপন করেন তিনি। বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার অভিযোগগুলোর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন বলে জানান এই সংসদ সদস্য।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে এর আগেও একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, মন্দির ভাঙচুর এবং বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ নিয়ে ব্রিটিশ রাজনৈতিক মহলের একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করে। বব ব্ল্যাকম্যানও বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর সঙ্গে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের আরেক সংসদ সদস্য প্রীতি প্যাটেল।
ব্ল্যাকম্যান অতীতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে গিয়ে সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতা এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার অভিযোগ তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর নিরাপত্তার বিষয়টিও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের প্রতিটি ঘটনার প্রকৃতি, দায়ী ব্যক্তিদের পরিচয় এবং তদন্তের অগ্রগতি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে, গত ৪ অক্টোবর ঢাকায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। ওই বৈঠক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক সেদিন জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে তাঁদের মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় এবং বহুমাত্রিক করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়েও আলোচনা হয়।
তবে ওই বৈঠক সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রকাশিত বিবরণে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, দুর্গাপূজা ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা কিংবা এ বিষয়ে ব্রিটিশ সরকারের চাপের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বব ব্ল্যাকম্যানের বক্তব্যে বর্ণিত বিষয়গুলো বৈঠকের আনুষ্ঠানিক বিবরণে প্রতিফলিত হয়নি।
ব্রিটিশ সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে কী ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, তার বিস্তারিতও ব্ল্যাকম্যানের পোস্টে প্রকাশ করা হয়নি। তবে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সহিংসতার অভিযোগের বিচার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের একাংশের আলোচনায় রয়েছে।
বাংলাদেশে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ার বিষয়টি একদিকে যেমন সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থার আলোচনায় এসেছে, অন্যদিকে সংখ্যালঘুদের ওপর অতীতের সহিংসতার অভিযোগের তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করার দাবি তুলেছেন ব্রিটিশ সংসদ সদস্যরা। তবে পূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্রিটিশ সরকারের চাপ কতটা ভূমিকা রেখেছিল, তা নির্ধারণের জন্য দুই সরকারের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক আলোচনার বিস্তারিত জানা গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্রঃ দ্য ওয়াল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au