জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশ সদস্য নিহত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জম্মু ও কাশ্মীরের দক্ষিণাঞ্চলের অনন্তনাগ জেলায় সন্ত্রাসী হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।…
মেলবোর্ন, ৩ ডিসেম্বর- ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর মো. আব্দুল জলিল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এবং ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ভোটকেন্দ্রের ভেতরে-বাইরে দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে কথোপকথনের কিছু অংশ ফাঁস হওয়ার অভিযোগ উঠে। বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক মহল এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
জানা গেছে, ফাঁস হওয়া আলাপচারিতায় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্ভাব্য নির্বাচনি দায়িত্ব, কেন্দ্রের নিরাপত্তা এবং ডিউটি প্ল্যান নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। অডিও ফাঁসের পরই আবারও প্রশ্ন উঠেছে, ইসলামী ব্যাংক এবং জামায়াতের মধ্যে কি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রশাসনিক সম্পর্ক আছে কি না। যদিও গত ২৮ অক্টোবর জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে স্পষ্ট করেছেন, ইসলামী ব্যাংকের সঙ্গে তাদের কোনো সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই।
এর আগে ২৬ অক্টোবর জামায়াতে ইসলামী উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি বিবৃতি দেয়, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিবৃতিতে বলা হয়, বিএনপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জাতীয় নির্বাচনে দায়িত্ব না দেওয়ার আহ্বান প্রকাশিত হওয়ার পর এমন প্রতিক্রিয়া এসেছে। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “বিএনপির দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, অযৌক্তিক এবং অগ্রহণযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে অরাজনৈতিক ও সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তাই তাদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, “এ ধরনের অভিযোগ নির্বাচনকে ঘিরে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।”
বিএনপির অভিযোগ অনুসারে, ২৩ অক্টোবর দলের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে জানায়, “ব্যাংকগুলোর কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর রাজনৈতিক পক্ষপাত থাকতে পারে, তাই তাদের ভোটের কাজে দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।” বৈঠক শেষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, “নির্বাচন কমিশনও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে আমাদের জানানো হয়েছে।”
ফাঁস হওয়া কথোপকথনের সঙ্গে মূলত জড়িত হয়েছেন ইসলামী ব্যাংকের ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর মো. আব্দুল জলিল। তিনি দেশের একজন অভিজ্ঞ ও খ্যাতিমান ইসলামী ব্যাংকার। আব্দুল জলিল ১৯৮৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকে কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দেন, ১৯৮৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইসলামী ব্যাংকে বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৭ সালে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ডিএমডি হিসেবে অবসর নেন। তার দক্ষতা ব্যাংকিং, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অফশোর ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রয়েছে।
অডিও ফাঁসের সত্যতা নিয়ে এখনও ইসলামী ব্যাংক, জামায়াতের সংশ্লিষ্ট নেতারা বা নির্বাচন কমিশনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিষয়টি যাচাই বা তদন্ত করা হবে কি না, তা এখনো অজানা। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে এমন তথ্য প্রকাশ জনমনে অবশ্যই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au