সংগঠনটি বলেছে, এই নৃশংস ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে এবং সামনে নির্বাচনকে ঘিরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মেলবোর্ন, ৮ ডিসেম্বর- বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ রংপুরের তারাগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা যোগেশ চন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রীকে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, এই নৃশংস ঘটনা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে এবং সামনে নির্বাচনকে ঘিরেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হত্যাকাণ্ড শুধুই একটি অপরাধ নয়, এটি সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। সংগঠনটি দ্রুততম সময়ে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
৭ ডিসেম্বর(রবিবার) সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পাঠান মনীন্দ্র কুমার নাথ বিবৃতিটি গণমাধ্যমের কাছে পাঠান।
শনিবার গভীর রাতে কুর্শা ইউনিয়নের উত্তর রহিমাপুর গ্রামের বাড়িতে যোগেশ রায় (৭৫) এবং তাঁর স্ত্রী সুর্বণা রায়(৬০)কে হত্যা করা হয়। রোববার সকালে প্রতিবেশীরা ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে সন্দেহ করেন। পরে মই বেয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে ডাইনিং রুমে যোগেশ রায় এবং রান্নাঘরে সুর্বণা রায়ের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এরপর পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী দীপক চন্দ্র রায় জানান, প্রতিদিনের মতো সকালে তিনি কাজের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার সময় ঘরের ভেতরের অস্বাভাবিক নীরবতা টের পান। তিনি বলেন, বহুবার ডাকাডাকি করার পরও কোনো শব্দ না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের ডেকে ভেতরে ঢোকেন এবং মরদেহ দেখতে পান।
নিহত যোগেশ রায় স্থানীয় চাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ২০১৭ সালে অবসর নেওয়ার পর স্ত্রীকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন। দুই ছেলে আলাদাভাবে কর্মরত। বড় ছেলে শোভেন চন্দ্র রায় জয়পুরহাটে, আর ছোট ছেলে রাজেশ খান্না চন্দ্র রায় ঢাকায় পুলিশে চাকরি করেন।
মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আলী হোসেন বলেন, যোগেশ রায় ছিলেন এলাকার সম্মানিত ব্যক্তি। তিনি জানান, দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচার না হলে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নেওয়া হবে।
তারাগঞ্জ থানার এসআই আবু ছাইয়ুম বলেন, দুজনকে ধারালো অস্ত্র বা ভোঁতা কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের বাসার ভেতরে কীভাবে হামলাকারীরা ঢুকল, সেটি তদন্তে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, তদন্ত দল ইতিমধ্যে প্রমাণ সংগ্রহ শুরু করেছে।