স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের মুখোমুখী সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬
স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দ্রুতগতির দুটি ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৪৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অনেকে। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক…
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালানো হলে পাল্টা জবাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাইয়্যেদ মোহাম্মদ মারান্দি। তাঁর দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা আরও বিস্তৃত হলে তেহরানও পাল্টা পদক্ষেপের পরিধি বাড়াবে। এতে ওই অঞ্চলে কয়েকটি দেশের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান গুরুতর সংকটে পড়তে পারে।
ইরানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম পার্সটুডের এক প্রতিবেদনে মারান্দির এই বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সাক্ষাৎকারে তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে এবং পরিস্থিতির পরিণতি নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাঁর মতে, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হলে তেহরানও আরও জোরালো সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
মারান্দি বলেন, ইরান যুদ্ধ শুরু করেনি এবং উত্তেজনা বাড়াতেও আগ্রহী নয়। তবে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা হলে ইরান নীরব থাকবে না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব দেশ চলমান সংঘাতে যুক্ত রয়েছে বা যাদের ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তেহরান মনে করে, পাল্টা জবাবের ক্ষেত্রে সেসব দেশও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যেখানে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ও প্রভাব মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর জন্যও এর পরিণতি ভয়াবহ হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে কোন দেশ কী ধরনের হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে, সে বিষয়ে সাক্ষাৎকারে নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা বা বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়নি।
আরব দেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মারান্দি। তাঁর দাবি, ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় সামরিক সক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট নয়। চলমান সংঘাতে তাদের সামরিক সক্ষমতা আরও ক্ষয় হতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করেন এই বিশ্লেষক। তাঁর মতে, ইয়েমেন সংঘাত সৌদি আরবের সামরিক সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেছে। এ অভিজ্ঞতা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় বলে তিনি মনে করেন।
মারান্দির অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যের আরব মিত্রদের তুলনায় ইসরায়েলকে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তাঁর মতে, আরব দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিরাপত্তা ও সামরিক সহযোগিতায় যুক্ত থাকলেও সংঘাতের সময় তাদের স্বার্থ যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মারান্দির এই বক্তব্য আঞ্চলিক সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি, জ্বালানি অবকাঠামো এবং আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সম্ভাব্য সংঘাতের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে মারান্দির বক্তব্য একজন ইরানি অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকের মূল্যায়ন। সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব কিংবা অন্য কোনো দেশের অস্তিত্ব সত্যিই বিপন্ন হবে কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলার মতো স্বাধীন সামরিক মূল্যায়ন বা প্রমাণ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়নি। ফলে তাঁর মন্তব্যকে সম্ভাব্য পাল্টা পদক্ষেপ সম্পর্কে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা যায়, নিশ্চিত সামরিক পরিণতি হিসেবে নয়।
পার্সটুডের প্রতিবেদনে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্রঃ পার্সটুডে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au