গোলখরা কাটিয়ে সমর্থকদের কাছে ক্ষমা চাইলেন আলভারেজ
দীর্ঘ আট মাসের গোলখরা কাটিয়ে স্প্যানিশ ক্লাব আতলেতিকো মাদ্রিদের জয়সূচক গোল করেছেন আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপজয়ী ফরোয়ার্ড হুলিয়ান আলভারেজ। গোল করার পর সমর্থকদের কাছে আগের মন্তব্যের জন্য…
মেলবোর্ন ৪ জানুয়ারি-আইপিএল ২০২৬–এর জন্য মুস্তাফিজুর রহমানকে স্কোয়াড থেকে ছেড়ে দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেওয়ার খবরে বাংলাদেশের ক্রিকেট অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই)–এর এই সিদ্ধান্তের পেছনে দুই দেশের মধ্যকার রাজনৈতিক উত্তেজনাকে কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিলেটে চলমান বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) থাকা ক্রিকেটার, কোচ ও কর্মকর্তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল মুস্তাফিজ ইস্যু। শুধু একটি আইপিএল চুক্তি বাতিল নয়, এই ঘটনায় ভারতের বাংলাদেশ সফর এবং আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের ম্যাচ খেলা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের প্রধান কোচ ও সাবেক বিসিবি পরিচালক খালেদ মাহমুদ এই ঘটনাকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন,“এটা সত্যিই কষ্টের ঘটনা। রাজনৈতিক বা ধর্মভিত্তিক কোনো প্রভাব থাকতে পারে—এমন কথাই শোনা যাচ্ছে। মুস্তাফিজের জন্য তো বটেই, আমাদের সবার জন্যই এটি হতাশার। সাকিবের সময় যেমন সবাই কেকেআর সমর্থক হয়ে গিয়েছিল, মুস্তাফিজের ক্ষেত্রেও তাই হতো।”
তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিয়ে সরকার ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড–কে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে এবং প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)–কে জানাতে হবে। তাঁর মতে, ভারতের বাইরে অন্য ভেন্যুতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ম্যাচ আয়োজন একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে।
রংপুর রাইডার্সের সহকারী কোচ ও সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, “আমি সত্যিই অবাক হয়েছি। এবার কলকাতা মুস্তাফিজকে সর্বোচ্চ দামে নিয়েছিল। ২০১৬ সাল থেকে আইপিএলে সে ধারাবাহিকভাবে ভালো করেছে। অথচ এবার এমন কিছু হবে, ভাবিনি। ক্রিকেটকে রাজনীতির সঙ্গে জড়ানো উচিত নয়—এই খবরটা খুব খারাপ লেগেছে।”
আরেক সাবেক অধিনায়ক ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের ব্যাটিং কোচ রাজিন সালেহ বিষয়টিকে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য অপমানজনক বলে মন্তব্য করেন। তার ভাষায়, “এটা মুস্তাফিজের অপমান নয়, বাংলাদেশ ক্রিকেটের অপমান। যদি আইপিএলে একজন খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা দেওয়া না যায়, তাহলে বিশ্বকাপে পুরো দলকে কীভাবে নিরাপত্তা দেবে? বাস্তবিকই যদি নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকে, তবে ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়া উচিত।”
এই ঘটনার প্রভাব আরও দূর পর্যন্ত যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ফ্র্যাঞ্চাইজি টি–টোয়েন্টি লিগগুলোতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সুযোগ কমে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা যেমন ২০০৮–এর পর অনেক লিগে কার্যত ব্রাত্য হয়ে পড়েছিলেন, একই পথে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদেরও পড়তে হতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে,মুস্তাফিজ–কেকেআর জটিলতা এখন আর কেবল একটি আইপিএল চুক্তির গল্প নয়। এটি বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অবস্থান, নিরাপত্তা প্রশ্ন এবং ভবিষ্যৎ ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট সম্ভাবনা—সবকিছুকেই নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au