জীবনযাত্রার ব্যয়, আবাসনসংকট ও বড় দলগুলোর প্রতি অসন্তোষে ওয়ান নেশনের দিকে ঝুঁকছেন একাংশের অস্ট্রেলীয় ভোটার। ছবিতে দলটির নেতা পলিন হ্যানসন ও ওয়ান নেশনের লোগো। ছবি: ওটিএন বাংলা
ওটিএন বাংলা ডেস্ক: জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, সাধ্যের মধ্যে আবাসন পাওয়ার সংকট এবং অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগ—এই তিনটি বিষয়কে কেন্দ্র করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তি লেবার ও লিবারেল–ন্যাশনাল কোয়ালিশন থেকে মুখ ফিরিয়ে পলিন হ্যানসনের ওয়ান নেশনের দিকে ঝুঁকছেন একাংশের ভোটার। তবে এই সমর্থন নির্বাচনী প্রচারের কঠোর যাচাইয়ের মুখে কতটা টিকবে, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
নিউজ২৪ ডটকম ডটএইউয়ের হাতে আসা প্রধান রাজনৈতিক দলসংশ্লিষ্ট নতুন গবেষণা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় ভোটাররা কেন ওয়ান নেশনকে সমর্থন করছেন এবং কেন লেবার বা কোয়ালিশনের কাছে ফিরছেন না, তা অনুসন্ধান করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অনেক অংশগ্রহণকারী মনে করেন, তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান দিতে পারছে না বড় দলগুলো। অন্যদিকে, হ্যানসনের সরাসরি কথা বলার ধরন তাঁদের কাছে তুলনামূলকভাবে অকৃত্রিম মনে হচ্ছে। লেবার ও লিবারেল রাজনীতিকদের সতর্ক ও আগে থেকে প্রস্তুত করা বক্তব্যের বিপরীতে এই বৈশিষ্ট্য তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিচ্ছে।
কুইন্সল্যান্ডের এক নারী অংশগ্রহণকারী জানান, তিনি কখনো ওয়ান নেশনের ভোটার হবেন বলে ভাবেননি। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর অবস্থান বদলেছে। তাঁর মতে, দলটি প্রতিপক্ষকে আক্রমণের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের আরেক অংশগ্রহণকারী জানান, বড় দলগুলো যেসব সমস্যার যথাযথ সমাধান করছে না বলে তাঁর মনে হচ্ছে, সেসব বিষয়ে প্রতিবাদ জানাতেই তিনি ওয়ান নেশনকে সমর্থন করছেন।
তবে গবেষণায় দলটির সমর্থনের সীমাবদ্ধতাও উঠে এসেছে। কিছু ভোটারের কাছে ওয়ান নেশন মূলত রাজনৈতিক অসন্তোষ প্রকাশের মাধ্যম। সরকার পরিচালনার উপযুক্ত বিকল্প হিসেবে দলটিকে নিয়ে তাঁদের সংশয় রয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের এক পুরুষ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, প্রতিবাদ ও প্রচলিত রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ধাক্কা দেওয়ার জন্য দলটিকে বেছে নেওয়া যায়। কিন্তু বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান তাদের কাছে আছে কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
আরেকজন হ্যানসনের নীতির গভীরতা ও সরকার পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার এক নারীও জানান, বড় দলগুলোর ব্যর্থতার প্রতিবাদে ওয়ান নেশনকে সমর্থন করলেও ক্ষমতায় গেলে দলটি কী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করবে, তা তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়।
সুপারঅ্যানুয়েশন প্রস্তাব নিয়ে সংশয়
গবেষণায় আলোচিত উদ্বেগগুলোর মধ্যে ছিল তিন বছরের সময়সীমায় কর্মীদের সুপারঅ্যানুয়েশন বা অবসরকালীন সঞ্চয় থেকে অর্থ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব।
কিছু অংশগ্রহণকারী আশঙ্কা করেন, বর্তমানে হাতে বাড়তি অর্থ এলেও অবসরের সময় সঞ্চয় কমে যেতে পারে। এতে ভবিষ্যতে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরতা বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে।
নিউ সাউথ ওয়েলসের এক নারী অংশগ্রহণকারী মনে করেন, বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকা অবস্থায় অবসরকালীন সঞ্চয় কমিয়ে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা তৈরি করতে পারে। কুইন্সল্যান্ডের আরেক অংশগ্রহণকারী প্রস্তাবটিকে পরিবারের আর্থিক সংকটের মূল কারণ মোকাবিলার পরিবর্তে সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে দেখেছেন।
জরিপে এগিয়ে ওয়ান নেশন
এদিকে, সাম্প্রতিক নিউজ২৪ পালস/ইউগভ জরিপে প্রথম পছন্দের ভোটে ওয়ান নেশনের সমর্থন ২৭ শতাংশ, লেবারের ২৪ শতাংশ এবং কোয়ালিশনের ২৩ শতাংশ। গ্রিনসের সমর্থন ১৪ শতাংশ। আগের জরিপের তুলনায় ওয়ান নেশন ও লেবারের সমর্থন এক শতাংশ পয়েন্ট করে কমলেও কোয়ালিশনের সমর্থন বেড়েছে দুই শতাংশ পয়েন্ট।
একই জরিপে দুই দলভিত্তিক অগ্রাধিকার হিসাবে লেবার ও কোয়ালিশনের সমর্থন সমান—৫০ শতাংশ করে। ফলে এখন নির্বাচন হলে কে সরকার গঠন করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। তবে প্রথম পছন্দের ভোটে এগিয়ে থাকা সরাসরি সরকার গঠনের নিশ্চয়তা দেয় না; আসনভিত্তিক ফল ও পছন্দক্রমের ভোটও গুরুত্বপূর্ণ।
নিউজ২৪-এর প্রতিবেদনে ইউগভের পাবলিক ডেটা পরিচালক পল স্মিথের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শ্রমজীবী ভোটারদের মধ্যে সমর্থন হারানো লেবারের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে।
গবেষণার ফলাফলে ওয়ান নেশনের সামনে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়েছে: বড় দলগুলোর প্রতি ভোটারদের ক্ষোভকে দীর্ঘস্থায়ী আস্থায় রূপ দেওয়া। নির্বাচনী প্রচারে অর্থনীতি, আবাসন ও অবসরকালীন নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত প্রশ্নের মুখে দলটি কতটা গ্রহণযোগ্য উত্তর দিতে পারে, তার ওপর এই সমর্থনের স্থায়িত্ব অনেকাংশে নির্ভর করবে।
সূত্র: নিউজ২৪ ডটকম ডটএইউয়ের প্রতিবেদন