মেলবোর্ন ১০ জানুয়ারি: ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত শুটারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। গাজীপুর ও মানিকগঞ্জে পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ডিবির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছে হত্যাকাণ্ডের ‘প্রাইম শুটার’ জিনাত এবং ঘটনাটির পরিকল্পনাকারী হিসেবে সন্দেহভাজন বিল্লাল। অপর একজন তাদের সহযোগী বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের উদ্দেশ্য ও নির্দেশদাতাদের শনাক্তে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
বুধবার রাত সোয়া ৮টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিপরীতে স্টার হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের পাশে আহ্ছানউল্লা টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মুছাব্বির। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সুফিয়ান বেপারি ওরফে মাসুদ গুলিবিদ্ধ হন। তিনি কারওয়ান বাজার ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হত্যার প্রায় ২৫ মিনিট আগে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রধান দুই সন্দেহভাজন। গলির মুখে আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকা এক সহযোগীর কাছে মোটরসাইকেলটি রেখে তারা ভেতরের অন্ধকার অংশে ওত পেতে থাকে। হত্যাকাণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পর গলির মুখে থাকা ব্যক্তি মোটরসাইকেল নিয়ে ফার্মগেটের দিকে পালিয়ে যায়।
পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে অন্তত চারজনের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে। গুলি করার পর দুজনকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখা যায়। অপর একজন ঘটনাস্থলের আশপাশে এমনভাবে ঘোরাফেরা করছিল যে, শুরুতে তাকে সন্দেহ করা হয়নি। পরে অন্য একটি ফুটেজে তাকে বাকি সন্দেহভাজনদের সঙ্গে আলোচনা করতে দেখা যায়। আরেকজন গলির মুখে অবস্থান করছিল বলে শনাক্ত হয়েছে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে নিহতের পরিবার ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের মধ্যে। গ্রেপ্তারের দাবিতে গতকাল দুপুরে তেজগাঁও থানার সামনে বিক্ষোভ করেন স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও দলীয় নেতাকর্মীরা। পরে তারা কারওয়ান বাজার এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন।
তেজগাঁও থানার ওসি ক্যশৈন্যু মারমা বলেন, নতুন সিসিটিভি ফুটেজে চারজন সন্দেহভাজনের মুখ অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে দ্রুত তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে পুলিশ। তবে এখনো হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আধিপত্য বিস্তার, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন মুছাব্বিরের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয় চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে। তিনি জানান, তার স্বামী দীর্ঘদিন ধরে হত্যার হুমকিতে ছিলেন এবং প্রায়ই বলতেন, তার অনেক শত্রু তৈরি হয়েছে। তবে কারা জড়িত, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি।
পুলিশ বলছে, কিলিং মিশনে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ও এর পেছনের পরিকল্পনাকারীদের আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।