ফেসবুকে ঢাকা দখলের ডাক, কে এই ছাত্রলীগ নেতা?
ওটিএন বাংলা রিপোর্ট : ফেসবুকে আওয়ামী লীগের ব্যানারে ‘ঢাকা দখলের’ ঘোষণা দিয়ে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ছাত্রলীগের এক নেতা। তাঁর নাম আসাদ মোল্লা (৩০)।…
মেলবোর্ন,৪ ফেব্রুয়ারি- চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কনসেশন চুক্তির উদ্যোগকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী আখ্যা দিয়েছেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। তাঁর দাবি, এই চুক্তির সঙ্গে জড়িতরা যাতে দেশ ছাড়তে না পারেন, সে বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির আয়োজিত এক সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি এবং বন্দর শ্রমিকদের চলমান কর্মবিরতির প্রতি সংহতি জানিয়ে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই অধ্যাপক বলেন, একটি অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘ ৩০ থেকে ৬০ বছরের জন্য দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি ও ভূরাজনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে—এমন চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার নেই। অথচ বর্তমান সরকার অস্বচ্ছতা ও তড়িঘড়ির মধ্য দিয়ে এনসিটি ইজারার পথে এগোচ্ছে।
আনু মুহাম্মদের ভাষায়, বিদেশি কোম্পানির হাতে নিউমুরিং টার্মিনাল তুলে দিলে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে, অথচ সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি শুল্ক ও মাশুলের বোঝা চাপানো হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় ও রপ্তানি খরচ বাড়বে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে।
তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল আগের সরকারের সময় করা জনস্বার্থবিরোধী চুক্তিগুলো পর্যালোচনা ও সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া। কিন্তু উল্টোভাবে বর্তমান সরকার সেই চুক্তিগুলো বহাল রাখার পাশাপাশি নতুন করে আরও বিতর্কিত চুক্তির দিকে এগোচ্ছে, যা দেশকে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব তুলে ধরে আনু মুহাম্মদ বলেন, দেশের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি এই বন্দর দিয়ে হয়। সেই বন্দর যখন একটি বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে যাবে, তখন পুরো দেশই কার্যত জিম্মি হয়ে পড়বে। এতে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি হবে।
জাতীয় নির্বাচনের আগে কেন সরকার এনসিটি চুক্তি দ্রুত করতে চাইছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। শ্রমিক, বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের বিরোধিতার পরও চুক্তির উদ্যোগ চালিয়ে যাওয়ার পেছনে কার স্বার্থ কাজ করছে—তা জনসমক্ষে পরিষ্কার করার দাবি জানান তিনি।
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা, যিনি এই চুক্তির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ‘ইকোনমিক হিটম্যান’ বলে আখ্যা দেন। অধিকার কমিটির সদস্য মাহতাব উদ্দীন বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সংকটে সরকারের ভূমিকা ধীর হলেও দেশবিরোধী চুক্তির ক্ষেত্রে তাদের গতি অস্বাভাবিক দ্রুত।
সমাবেশে বক্তারা এনসিটি ইজারার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বন্দর শ্রমিকদের প্রতি সংহতি জানান এবং আসন্ন নির্বাচনের পর নতুন সরকারের প্রথম কাজ হিসেবে এই চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au