এভারেস্ট জয়ের রহস্য: ১০০ বছর পরও অজানা ম্যালোরি-আরভিনের শেষ পরিণতি
মেলবোর্ন, ৬ জুন- বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত মাউন্ট এভারেস্টকে ঘিরে অসংখ্য ইতিহাস, অর্জন ও ট্র্যাজেডির গল্প রয়েছে। তবে এসব কাহিনির মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী…
মেলবোর্ন, ৫ ফেব্রুয়ারি- সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ সহকারী শিক্ষককে নিয়মিত পাঠদানের বাইরে অন্তত ৩৭ ধরনের দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক কাজে যুক্ত থাকতে হচ্ছে। এসব অপেশাদার বা নন-প্রফেশনাল দায়িত্ব পালনে প্রতিবছর সরকারের ব্যয় হচ্ছে এক হাজার ৭১০ কোটি টাকারও বেশি। তবে এই ব্যয়ের সরাসরি সুফল শিক্ষার্থীদের শিক্ষায় প্রতিফলিত হচ্ছে না। বরং অতিরিক্ত কাজের চাপ শিক্ষকদের মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে এবং শিক্ষার গুণগত মান ও শিখন ফল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি পরিচালিত এক গবেষণায় এ চিত্র উঠে এসেছে। ‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার শিক্ষণ ও শিখনগত ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনটি গত মঙ্গলবার প্রকাশ করা হয়।
গবেষণায় বলা হয়েছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ২৪ ঘণ্টা অপেশাদার কাজে ব্যয় করেন। এর বড় অংশ চলে যায় বিভিন্ন সরকারি জরিপ ও দাপ্তরিক কাজে। তুলনামূলকভাবে বিদ্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ কিংবা শিক্ষার্থীদের বাড়ি পরিদর্শনে সময় ব্যয় কম।
অতিরিক্ত দায়িত্বের এই চাপ সরাসরি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদানে প্রভাব ফেলছে। গবেষণায় অংশ নেওয়া শিক্ষকদের ৯০ শতাংশ জানান, অপেশাদার কাজ শেষ করে শ্রেণিকক্ষে ঢোকার পর তারা পুরো মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না। এর ফলে পাঠদানে ধারাবাহিকতা ব্যাহত হয়। ৮৭ শতাংশ শিক্ষক মনে করেন, এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকভাবে বুঝতে পারছে না এবং পরীক্ষার ফলেও তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যের চিত্র আরও উদ্বেগজনক। জরিপে যেসব শিক্ষকের ক্ষেত্রে বার্নআউট নির্ণয় করা সম্ভব হয়েছে, তাদের মধ্যে ৯২ দশমিক ৬৯ শতাংশ ‘লেট-স্টেজ বার্নআউট’-এ ভুগছেন। অর্থাৎ তারা চরম কর্মক্লান্তির ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছেন।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রধান শিক্ষকরা সহকারী শিক্ষকদের তুলনায় বেশি সময় নন-প্রফেশনাল কাজে ব্যয় করেন। প্রধান শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এই সময় গড়ে মাসে প্রায় ২৭ দশমিক ৭৪ ঘণ্টা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেন, গবেষণার তথ্য ও সুপারিশ নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবু নূর মো. শামসুজ্জামান ও ফরিদ আহমদ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au