ফিফা সভাপতির পদত্যাগ চান লা লিগা সভাপতি তেবাস
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর বিরুদ্ধে আবারও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন স্পেনের লা লিগা সভাপতি হ্যাভিয়ের তেবাস। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ৪৮ থেকে বাড়িয়ে…
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ভারতের সিকিমে নির্মীয়মাণ একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, বিষাক্ত মিথেন গ্যাস লিক হয়ে বিস্ফোরণের পর সুড়ঙ্গে ধস নামে। এতে বহু শ্রমিক ও প্রকৌশলী ভেতরে আটকা পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া ও সুড়ঙ্গের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাসের উপস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
সোমবার (২১ জুলাই) সিকিমের নামচি জেলার সামারদুং এলাকার তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ ধসের কারণে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ বন্ধ হয়ে যায় এবং ভেতরে থাকা শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সুড়ঙ্গের ভেতরে আরও পাঁচ থেকে ছয়জনের মরদেহের সন্ধান পেয়েছেন বলে জানা গেছে। সেগুলো এখনও বাইরে আনা সম্ভব হয়নি। ফলে মৃতের সংখ্যা ২০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছে সিকিম প্রশাসন।
সিকিম পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট (এসপি) সোনম ডি ভুটিয়া জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গে আটকে পড়া প্রায় ২৫ জনের মধ্যে অধিকাংশেরই বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ক্ষীণ। তিনি জানান, উদ্ধারকাজের সময় পরিস্থিতি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সুড়ঙ্গের ভেতরে মিথেন গ্যাস জমে যাওয়ার পর তা লিক হয়ে বিস্ফোরণের সৃষ্টি করে। বিস্ফোরণের পর মুহূর্তের মধ্যে ধস নেমে সুড়ঙ্গের একটি বড় অংশ বন্ধ হয়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় সুড়ঙ্গের ভেতর থেকে বিকট শব্দ শোনা যায় এবং পরে ধোঁয়া ও গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে।
উদ্ধারকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের ভেতরে এখনও মিথেন গ্যাসের উপস্থিতি রয়েছে। এ কারণে উদ্ধারকর্মীদের প্রবেশ করাও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কয়েকজন উদ্ধারকারী গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযানে নেমেছে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ), সিকিম রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী, সিকিম পুলিশ, দমকল বাহিনী এবং প্রকল্পের দায়িত্বে থাকা ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন (এনএইচপিসি)-এর দল। বৃষ্টির মধ্যেও উদ্ধারকাজ অব্যাহত রয়েছে।
সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেমসিংহ তামাং জানিয়েছেন, কীভাবে সুড়ঙ্গের ভেতরে মিথেন গ্যাস লিক হলো, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে চার লাখ টাকা এবং আহতদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে।
এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ টাকা এবং আহতদের জন্য ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
সুত্রঃ আনন্দ বাজার
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au