তাজুলের 'ঘুষ' নেওয়ার প্রমাণ দিলেন সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ছবিঃ ওটিএন বাংলা
মেলবোর্ন, ২৫ ফেব্রুয়ারি- আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চীফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাজুল ইসলাম অবৈধভাবে ২০২৪ সালে পুনর্গঠিত আইসিটির চীফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পেয়ে ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতাকে ব্যবহার করে সরকারি ও রাজনৈতিক স্বার্থে বিশাল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।
বাংলাদেশের সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমিনুল হক পলাশের ফেসবুক পোস্টের বরা্তে জানা গেছে, তাজুল ও তার ঘনিষ্ঠ প্রসিকিউটররা জামাত সমর্থক, এবং তারা আইসিটি ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে যুদ্ধে পলাতকদের বিচার না করে, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী, কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছেন। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে শীর্ষ ভূমিকা পালন করেছেন তাজুলের ডান হাত হিসেবে পরিচিত প্রসিকিউটর গাজী মনোয়ার হোসেন তামিম, যিনি মূল ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি একাউন্টের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
তদন্ত অনুযায়ী, বিচারকার্যকে আড়াল করে তারা শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। টাকা বেশিরভাগই নগদে লেনদেন হয়েছে, তবে বড় অংশ বিদেশেও স্থানান্তর করা হয়েছে। ২০২৪ সালের নভেম্বরে-ডিসেম্বরে তাজুল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় ২১ দিনের সফরে গিয়েছিলেন, সেই সময়ও লেনদেনের একটি বড় অংশ সম্পন্ন হয়েছে। দেশের ব্যাংকেও বিভিন্ন একাউন্টে সরাসরি অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে।
প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি একাউন্টের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে:
১. মোঃ আবুল হোসেন, একাউন্ট নং- ৩১৩৩২১৭০০৭৫২৮, প্রাইম ব্যাংক, আইবিবি মিরপুর শাখা।
২. মোঃ সাইফুল ইসলাম, একাউন্ট নং- ১১০১০০৬৬৬৭৬৮৮, যমুনা ব্যাংক, মতিঝিল শাখা।
৩. মোঃ জাহিদ হাসান নয়ন, একাউন্ট নং- ১৮৭০২১০১৪০১, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক, গুলশান শাখা।
সূত্র জানায়, তাজুল এই একাউন্টগুলোর মাধ্যমে আইসিটির মামলা থেকে নাম বাদ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ২৫ লক্ষ টাকা নেওয়ার মতো লেনদেন করেছেন। টাকা জমার রশিদও সংরক্ষিত আছে। সূত্র আরও জানায়, এই তথ্যের মাধ্যমে তাজুলের দুর্নীতির প্রমাণ সহজেই বের করা সম্ভব।
সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমিনুল হক পলাশ বলেন, “তাজুল ও তার ঘনিষ্ঠরা ট্রাইব্যুনালকে ব্যবহার করে যে প্রহসন করেছেন, তার বিচার একদিন দেশের মাটিতে হবে। যে শত শত কোটি টাকা নিরীহ মানুষের কাছ থেকে আদায় করা হয়েছে, তা খুব দীর্ঘদিন তারা ভোগ করতে পারবে না।”
এই ঘটনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নজরদারির গুরুত্ব নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে, এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আইন অনুযায়ী বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।