নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ৫ এপ্রিল: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, এই সময়ের মধ্যে সমঝোতায় না এলে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে “ভয়াবহ পরিণতি” ভোগ করতে হবে।
ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির পরপরই ইরানের কেন্দ্রীয় সামরিক কমান্ড তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। পাল্টা বার্তায় তারা জানিয়েছে, “এই ধরনের হুমকি দিলে তোমাদের জন্যই নরকের দরজা খুলে যাবে।”
এই উত্তেজনার পটভূমিতে রয়েছে সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষ। গতকাল ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের খুজেস্তান প্রদেশে দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি ফাইটার জেট এবং একটি গ্রাউন্ড অ্যাটাক বিমান ছিল। দুইজন ক্রু সদস্যকে উদ্ধার করা গেলেও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ মার্কিন পাইলটকে উদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। অন্যদিকে ইরানও ওই পাইলটকে খুঁজে বের করার কথা জানিয়েছে এবং স্থানীয় সাধারণ জনগণকে তাকে ধরিয়ে দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। পাকিস্তান, তুরস্ক এবং মিশর মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আবার আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। জাতিসংঘের পারমাণবিক তদারকি সংস্থা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা জানিয়েছে, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র-এর নিকটবর্তী এলাকায় নতুন করে হামলার খবর তাদের “গভীরভাবে উদ্বিগ্ন” করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এখন সব নজর কূটনৈতিক সমাধানের দিকে, তবে সামরিক উত্তেজনা যে কোনো সময় আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
-ABC News
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au