বিশ্ব

রাষ্ট্রদূত নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে বিতর্ক, পার্লামেন্টে কঠোর প্রশ্নের মুখে কিয়ার স্টারমার

  • 4:29 pm - April 23, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৯৩ বার
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ছবিঃ বিবিসি

মেলবোর্ন, ২৩ এপ্রিল- যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পার্লামেন্টে কঠোর প্রশ্নবাণের মুখে পড়তে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নোত্তর পর্বে তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বিরোধী এমপিদের চাপের মুখে পড়তে হয়, কারণ যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা যাচাইয়ে গুরুতর ঘাটতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নিরাপত্তা যাচাইয়ে স্পষ্ট সতর্ক সংকেত থাকা সত্ত্বেও ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল এবং পরে তার প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তাকে পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়। কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক প্রধানমন্ত্রীকে সংসদকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ এনে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সম্প্রতি বারবার দাবি করেছেন, পিটার ম্যান্ডেলসনকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের সময় সম্পূর্ণ নিয়ম অনুযায়ী যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল। তবে তিনি গত সপ্তাহে বিস্ময় প্রকাশ করে জানান, পররাষ্ট্র দপ্তরের কিছু কর্মকর্তারা প্রাথমিক নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত তার কাছে গোপন করেছিলেন। তিনি বলেন, এই তথ্য তিনি হঠাৎ করেই জানতে পারেন এবং এটি তাকে হতবাক করেছে।

এদিকে বিরোধী সব দলের পক্ষ থেকে পদত্যাগের দাবি ওঠার পর প্রধানমন্ত্রী স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এবং পুরো ঘটনা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন। মূল প্রশ্নগুলোর মধ্যে একটি হলো, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ঠিক কখন কী তথ্য জানতেন। তিনি দাবি করেছেন, গত মঙ্গলবারের আগে তিনি নিরাপত্তা যাচাইয়ের সতর্ক সংকেত সম্পর্কে কিছুই জানতেন না। অথচ এই সতর্কতা প্রথমে গত বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাজ্যের নিরাপত্তা ও যাচাই সংস্থার পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র দপ্তরে জানানো হয়েছিল। পরে এই তথ্য শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে তার কাছে পৌঁছায় বলে তিনি জানান।

এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে, কারণ অভিযোগ উঠেছে যে প্রায় এক বছর ধরে প্রধানমন্ত্রী বা তার ঘনিষ্ঠ দপ্তর এই তথ্য অন্ধকারে ছিল, যা বিরোধী দলগুলো বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, কেন প্রধানমন্ত্রী এবং তার দল অতিরিক্ত তথ্য জানতে চায়নি বা যাচাই প্রক্রিয়া আরও গভীরভাবে অনুসরণ করেনি।

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত ক্যারেন পিয়ার্সের স্থলাভিষিক্ত হিসেবে পিটার ম্যান্ডেলসনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যিনি একজন রাজনৈতিক নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি। সমালোচকদের মতে, রাজনৈতিক নিয়োগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি বেশি থাকে, তাই এখানে আরও সতর্ক যাচাই করা উচিত ছিল। ম্যান্ডেলসনের অতীতেও অর্থনৈতিক ও প্রভাব সংক্রান্ত নানা বিতর্ক ছিল এবং দুইবার তাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে তার বন্ধুত্বের বিষয়টি আগেই জনসমক্ষে ছিল।

আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো, প্রধানমন্ত্রী সংসদকে বিভ্রান্ত করেছেন কি না। বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির দাবি, তিনি সংসদে ভুল তথ্য দিয়েছেন এবং তা মন্ত্রীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। প্রধানমন্ত্রী অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তিনি তখন পর্যন্ত কেবল আনুষ্ঠানিক সুপারিশ সম্পর্কে জানতেন।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ভুল তথ্য সংসদে উপস্থাপন করা হলে তা দ্রুত সংশোধন করার বাধ্যবাধকতা থাকে। বিরোধীরা বলছে, তিনি গত সপ্তাহেই এই তথ্য জানার পরই তা সংশোধন করা উচিত ছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে তিনি তথ্য পাওয়ার পর পূর্ণ বিবরণ সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন এবং সোমবার সংসদে ফেরার আগে সবকিছু নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। এর মধ্যে তিনি পূর্বনির্ধারিত আন্তর্জাতিক বৈঠকে অংশ নিতে প্যারিসে ছিলেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, আগামী দিনে প্রকাশিত হতে যাওয়া নথিগুলোতে আর কী তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে। কিছু নথি প্রকাশ করা হবে, তবে মেট্রোপলিটন পুলিশের চলমান তদন্তের কারণে কিছু তথ্য গোপন রাখা হবে। এসব গোপনীয়তার অনুমোদন দিতে হবে গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কমিটির মাধ্যমে। বিরোধী নেত্রী কেমি ব্যাডেনক চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সব নথি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।

নভেম্বরে শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা জানান, পিটার ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত নিয়োগের আগে সরাসরি সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়নি, বরং তাকে একটি ফরম পূরণ করতে হয়েছিল যা মূলত আর্থিক স্বার্থের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। পরে এই প্রক্রিয়া পরিবর্তন করা হয়। এছাড়া নিয়োগের আগে করা অভ্যন্তরীণ যাচাই প্রতিবেদনে জেফরি এপস্টাইনের সঙ্গে সম্পর্কজনিত সম্ভাব্য সুনামহানির ঝুঁকির কথাও উল্লেখ ছিল।

এই ঘটনার তদন্ত এখন আরও গভীরে যাচ্ছে। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তার যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত, প্রধান সচিব এবং পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাকে হারিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার সংসদীয় কমিটিতে এই বিষয়ে আরও জবাবদিহি হতে পারে। কমিটির প্রধান জানিয়েছেন, আগের বক্তব্যে তিনি বিভ্রান্ত হয়েছিলেন বলে মনে করছেন।

সূত্রঃ স্কাই নিউজ

এই শাখার আরও খবর

মিটার-সংযোগ ছাড়াই গ্রাহকের নামে এলো ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যুতের নতুন মিটার স্থাপন কিংবা সংযোগ দেওয়ার আগেই এক গ্রাহকের নামে ৬৯২ টাকার বিল তৈরি হয়েছে। আগস্ট মাসের ওই বিল দেখে বিস্মিত হয়েছেন…

নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই:কাদায় চাপা পড়েছে সব, ভেঙেছে ছাদও

নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের শেষ…

আশুলিয়ায় তালাবদ্ধ ঘর থেকে নবজাতকসহ ৩ লাশ উদ্ধার

ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় একটি তালাবদ্ধ ভাড়া বাসা থেকে নবজাতকসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দিবাগত রাতে মধ্য জামগড়া এলাকার হাজী হযরত আলীর চারতলা বাড়ির…

জাতিসংঘে নতুন বিশ্ব মানচিত্র অনুমোদন, বদলাবে প্রচলিত মানচিত্রের ধারণা

বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন বাস্তবের তুলনায় ছোট করে দেখানোর দীর্ঘদিনের সমালোচনার মধ্যে ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামে নতুন ধরনের বিশ্ব মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন…

কেরালায় লরির সঙ্গে গাড়ির সংঘর্ষে ৮ শিক্ষার্থী নিহত

ভারতের কেরালা রাজ্যের ত্রিশুর জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আটজন নিহত হয়েছেন। নিহতরা প্রতিবেশী রাজ্য তামিলনাড়ুর শিক্ষার্থী বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। শনিবার(৫ সেপ্টেম্বর) পুলিশ জানায়,…

এয়ারবাস কেলেঙ্কারিতে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে গ্রেপ্তার

এয়ারবাসের বিমান কেনাবেচায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের ছেলে ও দেশটির সংসদ সদস্য নামাল রাজাপক্ষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au