অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসা আইএস সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে

  • 4:44 pm - May 08, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৬৮ বার
আইএস সংশ্লিষ্ট ১৩ জন অস্ট্রেলিয়ান নারী ও শিশু দেশে ফিরে এসেছে। ছবিঃ এবিসি নিউজ

মেলবোর্ন, ৮ মে- সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর দখলদারিত্ব শেষ হওয়ার কয়েক বছর পর ১৩ জন অস্ট্রেলিয়ান নারী ও শিশু দেশে ফিরে এসেছে। এই দলটি মূলত আইএস-এর সঙ্গে যুক্ত পরিবারগুলোর সদস্য।

অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই গ্রুপের একটি অংশ বৃহস্পতিবার রাতে মেলবোর্ন বিমানবন্দরে পৌঁছায়। অন্য একটি নারী ও তার সন্তান সিডনিতে অবতরণ করে।

ফেরত আসা নারীদের মধ্যে দুজনের বিরুদ্ধে দাসপ্রথা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে সিডনিতে নামা ৩২ বছর বয়সী এক নারীকে সন্ত্রাস-সম্পর্কিত অপরাধে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সিরিয়া থেকে ফেরা আইএস-সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যরা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছেই গ্রেপ্তার। ছবিঃ এবিসি নিউজ

আইএস কী

ইসলামিক স্টেট বা আইএস (আইএসআইএস, আইএসআইএল বা দায়েশ নামেও পরিচিত) একটি সুন্নি চরমপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী, যা ইরাক যুদ্ধের সময় গড়ে ওঠে এবং পরে ইরাক ও সিরিয়ার বড় অংশ দখল করে নেয়।

২০১৪ সালে সংগঠনটি সর্বোচ্চ শক্তি অর্জন করে নিজেকে একটি “খিলাফত” ঘোষণা করে এবং শরিয়া আইন চালু করা হয়। সেই সময় তারা গণহত্যা, নির্যাতন, যৌন দাসত্ব এবং প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ডের মতো ভয়াবহ অপরাধ চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

আইএস পরে আল কায়েদার ইরাক শাখা থেকে আরও চরমপন্থী রূপে বিকশিত হয় এবং বৈশ্বিক ইসলামি রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নেয়।

অস্ট্রেলিয়া ২০০৫ সালেই এই গোষ্ঠীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে ২০০-র বেশি অস্ট্রেলিয়ান নারী, পুরুষ ও শিশু সিরিয়া ও ইরাকে আইএস-এ যোগ দিতে যায় বলে জানা গেছে।

যদিও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের সামরিক অভিযানে আইএস তাদের শেষ ভূখণ্ড হারায়, তবুও সংগঠনটি এখনো সক্রিয়। বর্তমানে আনুমানিক ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার যোদ্ধা সিরিয়া ও ইরাকে সক্রিয় আছে এবং আফ্রিকায়ও তাদের শাখা কার্যক্রম চালু রয়েছে।

সিডনি ও মেলবোর্নে ফেরার পরই তিন ‘আইএসআইএস ব্রাইড’ গ্রেপ্তার। ছবিঃ সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়ান নারীরা কীভাবে জড়ালেন

কিছু নারী তাদের স্বামী বা সঙ্গীর সঙ্গে সিরিয়া ও ইরাকে গিয়েছিলেন, যারা আইএস সমর্থন করতেন। কেউ কেউ পরিবারের সঙ্গে গিয়ে পরে সেখানে আইএস যোদ্ধাদের সঙ্গে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে কিছু নারী দাবি করেছেন, তারা সেখানে প্রতারণা বা বাধ্য হয়ে গিয়েছিলেন।

ফেরত আসা নারী-শিশুদের সম্পর্কে যা জানা গেছে

ফেরত আসা ১৩ জনের মধ্যে চারজন নারী এবং নয়জন শিশু রয়েছে। তারা সবাই অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক এবং অস্ট্রেলিয়ান পাসপোর্টধারী।

এই নারীদের মধ্যে আছেন ৫৩ বছর বয়সী কাওসার আব্বাস, তার দুই মেয়ে জাহরা আহমেদ (৩৩) ও জয়নাব আহমেদ (৩১), এবং ৩২ বছর বয়সী জেনাই সাফার।

কাওসার আব্বাসের স্বামী আগে জানিয়েছিলেন, তারা ২০১৪ সালে ছেলের বিয়ের জন্য সিরিয়ায় গিয়েছিলেন এবং পরে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সেখানে আটকে পড়েন। তিনি দাবি করেন, তিনি কখনো আইএস সমর্থন করেননি।

জাহরা আহমেদের স্বামী ছিলেন মেলবোর্নের একজন আইএস রিক্রুটার, যিনি ২০১৮ সালে বিমান হামলায় মারা যান।

ফেরার পথে দোহায় যাত্রাবিরতির সময় কিছু নারী অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসার অনুভূতিকে স্বস্তিদায়ক বলে জানিয়েছেন। তারা বলেন, সিরিয়ায় তাদের জীবন ছিল ভয়াবহ, বিশেষ করে শিশুদের জন্য। অধিকাংশ শিশু সিরিয়ায় জন্ম নেওয়ায় তারা কখনো অস্ট্রেলিয়া দেখেনি, এবং এখন তাদের কাছে এটি নতুন এক অভিজ্ঞতা।

তারা কোথায় ছিলেন

২০১৯ সালে আইএস পরাজিত হওয়ার পর থেকে এই নারী ও শিশুরা উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার বিভিন্ন আটক শিবিরে বসবাস করছিল।

অনেক বিদেশি নারী ও শিশু দীর্ঘদিন ধরে আল হোল ও আল রোজ শিবিরে কঠিন পরিবেশে আটকে ছিলেন। মানবাধিকার সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে সেখানে নিরাপত্তাহীনতা, চিকিৎসার অভাব এবং চরমপন্থার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে।

সাম্প্রতিক এই ১৩ জন এপ্রিল মাসে আল রোজ শিবির থেকে বের হন। পরে তারা দামেস্কে অবস্থান করে গত সপ্তাহে দেশে ফেরার জন্য যাত্রা শুরু করেন।

আইএসআইএস-সম্পৃক্ত ১৩ নারী-শিশুর ফেরা নিয়ে সতর্ক অস্ট্রেলিয়া। ছবিঃ সংগৃহীত

গ্রেপ্তার ও অভিযোগ

মেলবোর্নে গ্রেপ্তার হওয়া দুই নারী হলেন কাওসার আব্বাস এবং জয়নাব আহমেদ। তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ, বিশেষ করে দাসত্বে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ (এএফপি) জানিয়েছে, কাওসার আব্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০১৪ সালে সিরিয়ায় গিয়ে একটি নারীকে ১০ হাজার মার্কিন ডলারে কেনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাকে জোরপূর্বক নিজ বাড়িতে আটকে রেখেছিলেন।

অস্ট্রেলিয়ার আইন অনুযায়ী, এই দুই নারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান রয়েছে।

সিডনিতে গ্রেপ্তার হওয়া নারী জেনাই সাফারকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য হওয়া এবং নিষিদ্ধ অঞ্চলে প্রবেশের অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারের

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশ জানিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকেই সিরিয়া ও ইরাক থেকে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকারীদের নিয়ে তদন্ত চলছে।

প্রশাসন বলছে, যারা অপরাধে জড়িত থাকার সন্দেহে আছে তাদের আদালতের মুখোমুখি করা হবে এবং পুরো বিষয়টি এখনো সক্রিয় তদন্তাধীন।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালেও সিরিয়ার শিবির থেকে ৪ জন নারী ও ১৩ শিশু অস্ট্রেলিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয়েছিল, যেখানে নিরাপত্তা যাচাই শেষে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্রঃ এবিসি নিউজ

এই শাখার আরও খবর

নিখোঁজের চারদিন পর বন্ধ ঘর থেকে উচ্ছ্বাস কর্মকারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- চার দিন ধরে নিখোঁজ থাকার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) গভীর রাতে…

কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর মুক্তি পেয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা…

শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে কংগ্রেস, অভিযোগ ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- ভারতের বিরোধীদল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁস ইস্যু ঘিরে চলমান…

নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই:  যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…

সাত মাসের শিশু কন্যাকে আছড়ে হত্যার মামলায় বাবা গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী শিশুকন্যাকে আছড়ে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বাবা কবির ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন…

জাবি মেডিক্যাল সেন্টারে ২১ দিনে প্রায় ২০ হাজার ওষুধের গরমিল

মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিক্যাল সেন্টারে মাত্র ২১ দিনের ব্যবধানে প্রায় ১৯ হাজার ৫৬৭ পিস ওষুধের গরমিল ধরা পড়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওষুধ ক্রয় কমিটির…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au