পাকিস্তানে বাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নিহত ।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১২ মে- পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে একটি ব্যস্ত বাজারে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত নয়জন নিহত এবং আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটিতে এটি দ্বিতীয় বড় ধরনের প্রাণঘাতী হামলা, যা নতুন করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
মঙ্গলবার বান্নু জেলার কাছে জনাকীর্ণ একটি বাজারে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে দুইজন পুলিশ সদস্য ও একজন নারী রয়েছেন।
পাকিস্তানের পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধার তৎপরতা শুরু হয়। অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট দ্রুত সেখানে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠায়।
বান্নুর ডেপুটি সুপারিনটেনডেন্ট অব পুলিশ নওরং সাঈদ খান বলেন, গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল ছাড়াও আশপাশের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।
টিএইচকিউ হাসপাতালের মেডিকেল সুপারিনটেনডেন্ট মোহাম্মদ ইসহাক জানান, এখন পর্যন্ত ৩৭ জন আহতকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ঘটনাস্থলের প্রকাশিত ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট, ধ্বংসস্তূপ এবং বিস্ফোরণে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া একটি গাড়ি দেখা গেছে।
এই হামলার মাত্র চার দিন আগে একই অঞ্চলে আরও ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। শনিবার জঙ্গিরা বিস্ফোরকভর্তি একটি গাড়ি বান্নুর একটি পুলিশ চেকপোস্টে আঘাত করে। এরপর হামলাকারীরা বাকি পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। ওই ঘটনায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য নিহত হন।
সাম্প্রতিক হামলাগুলোর জন্য পাকিস্তান আফগানিস্তানকে দায়ী করছে। ইসলামাবাদ বলছে, পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে এসব হামলা চালাচ্ছে।
এ ঘটনায় সোমবার পাকিস্তান আফগানিস্তানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে, আফগান তালেবান সরকার টিটিপিকে আশ্রয় ও সহায়তা দিচ্ছে। যদিও আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এসব অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছে।
কাবুলের দাবি, তারা আফগান ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলার কাজে ব্যবহার করতে দেয় না।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে তালেবান ইস্যুতে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতির কারণে সংঘাত আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে “উন্মুক্ত যুদ্ধ” ঘোষণার পর থেকেই দুই দেশের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
এদিকে জাতিসংঘ মঙ্গলবার জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে পাকিস্তান ও আফগান বাহিনীর সংঘাতে অন্তত ৩৭২ জন আফগান বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, নিহতদের প্রায় অর্ধেকই একটি মাদক পুনর্বাসন কেন্দ্রে চালানো হামলায় প্রাণ হারান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমান্ত এলাকায় জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি এবং পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।