হরমুজ প্রণালি এখন যুদ্ধাঞ্চলে পরিণত হয়েছে : ইরান
মেলবোর্ন, ১২ মে- মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে এখন পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাঞ্চল হিসেবে দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নৌ শাখা। আঞ্চলিক উত্তেজনা ও সামরিক…
মেলবোর্ন, ১২ মে- যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেসের উপশহর আর্কাডিয়ার সাবেক মেয়র আইলিন ওয়াং চীনের অবৈধ এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর তিনি মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনাপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের মধ্যেই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানায়, ২০২০ সালের শেষ দিক থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিদেশি সরকারের অবৈধ এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করতে সম্মত হয়েছেন আইলিন ওয়াং।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি চীনের পক্ষে প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও কখনোই মার্কিন সরকারের কাছে নিজেকে বিদেশি এজেন্ট হিসেবে নিবন্ধন করেননি, যা দেশটির আইনের পরিপন্থি।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৫৮ বছর বয়সী আইলিন ওয়াং ‘ইউএস নিউজ সেন্টার’ নামে একটি ওয়েবসাইট পরিচালনা করতেন। চীনা-আমেরিকান সম্প্রদায়ের জন্য সংবাদ পরিবেশনের আড়ালে ওই প্ল্যাটফর্মে চীনের পক্ষে বিভিন্ন প্রচারণামূলক ও বেইজিং-সমর্থিত বিষয়বস্তু প্রকাশ করা হতো বলে অভিযোগ উঠেছে।
মার্কিন প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন, ওয়াং ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ইয়াওনিং সানের সঙ্গে যৌথভাবে এই প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করতেন। ইয়াওনিং সানও এর আগে বিদেশি সরকারের অবৈধ এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অভিযোগে দোষ স্বীকার করেন এবং ২০২৫ সালের অক্টোবরে তাকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এদিকে আর্কাডিয়া শহরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, আইলিন ওয়াং সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
ওয়াংয়ের আইনজীবী ব্রায়ান এ সান এবং জেসন লিয়াং এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, আইলিন ওয়াং তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু ভুল সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত।
তারা দাবি করেন, এই ঘটনার সঙ্গে তার সরকারি দায়িত্ব বা জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজের কোনো সম্পর্ক নেই। বরং এটি তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বিষয়, যেখানে তিনি একসময় তার বাগদত্তার সঙ্গে একটি মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করতেন।
আইনজীবীরা আরও বলেন, “আর্কাডিয়া সম্প্রদায়ের প্রতি তার ভালোবাসা ও নিষ্ঠা কখনো কমেনি। তিনি স্থানীয় জনগণের সহানুভূতি ও সমর্থন প্রত্যাশা করছেন।”
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ আইজেনবার্গ ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শুধুমাত্র জনগণের স্বার্থে কাজ করা উচিত। একজন ব্যক্তি, যিনি বিদেশি সরকারের নির্দেশনা পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে, তিনি জনআস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। এটি অবশ্যই উদ্বেগের বিষয়।”
এ বিষয়ে চীনের দূতাবাস তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ঘটনাটি এমন এক সময় সামনে এলো যখন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিন পিংয়ের সম্ভাব্য বৈঠকের আগে এই ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কের আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au