শ্রুতি পালের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন
মেলবোর্ন, ৯ জুন- ফেনীতে চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী শ্রুতি পালের মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। তিনি চট্টগ্রামের একটি গীতাভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং…
মেলবোর্ন, ২৪ মে- ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোতে নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ইবোলা প্রাদুর্ভাবে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে উঠছে। আক্রান্তদের মরদেহ দাফনের সময় ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসের তিন স্বেচ্ছাসেবকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি (আইএফআরসি)।
নিহত স্বেচ্ছাসেবকেরা হলেন আলিকানা উদুমুসি অগাস্টিন, সেজাবো কাতানাবো এবং আজিকো চান্দিরু ভিভিয়েন। তারা দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশের মংওয়ালু শহরে মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। আইএফআরসি জানিয়েছে, তারা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আক্রান্ত মানুষের সেবায় কাজ করছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৭ মার্চ একটি প্রকল্পের আওতায় মরদেহ দাফনের কাজে অংশ নেওয়ার সময় তারা অজান্তেই সংক্রমিত হন। পরে ৫ মে থেকে ১৬ মে’র মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইবোলায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পরও তার শরীরের তরল পদার্থ অত্যন্ত সংক্রামক থাকে। ফলে দাফনের সময় সুরক্ষা ব্যবস্থা যথাযথ না হলে সংক্রমণের ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি থাকে।
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী করা হচ্ছে ইবোলার বিরল ‘বুন্দিবুগিও’ ধরনকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রজাতির বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো অনুমোদিত ভ্যাকসিন নেই। আক্রান্তদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৭৫০ জনের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৭০ জন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) আফ্রিকাজুড়ে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়েছে।
ডব্লিউএইচও প্রধান ড. টেড্রোস আধানম গেব্রেইয়েসুস জানিয়েছেন, বৈশ্বিক ঝুঁকি এখনো সীমিত থাকলেও আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
প্রতিবেশী উগান্ডাতেও নতুন করে তিনজন ইবোলা রোগী শনাক্ত হওয়ায় দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছেছে। আফ্রিকা সিডিসি ইতোমধ্যে অ্যাঙ্গোলা, বুরুন্ডি, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, দক্ষিণ সুদান, তানজানিয়াসহ অন্তত ১০টি দেশকে উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে।
ভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে কঙ্গো সরকার ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়ার সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক ও বেসরকারি ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে। শুধুমাত্র জরুরি চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তার ফ্লাইট বিশেষ অনুমতি নিয়ে চলাচল করতে পারবে।
এদিকে ইবোলা নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। ইতুরি অঞ্চলে ইবোলায় মৃত সন্দেহে এক যুবকের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর না করায় ক্ষুব্ধ জনতা একটি হাসপাতালের অংশে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au