পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে মাঠে মমতা, বিজেপি হটানোর নতুন কর্মসূচির ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৩ জুন- পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের প্রায় এক মাস পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন…
মেলবোর্ন, ২ জুন- দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেতা ও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়কে ঘিরে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অভিনেত্রী ও সাবেক নার্স জুলি দাবি করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজয়ের সমর্থকদের ট্রোলিং, অপপ্রচার ও মানসিক হয়রানির কারণে তিনি চরম মানসিক চাপে পড়েছিলেন এবং এর ফলেই তার গর্ভপাত ঘটে। তার এই অভিযোগ তামিল চলচ্চিত্র অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে।
সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জুলি তার ব্যক্তিগত জীবনের একটি বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিয়ের পর তিনি ও তার স্বামী প্রথম সন্তানের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু সেই সময় থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে নানা ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিদ্বেষমূলক প্রচারণা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হয়। তিনি দাবি করেন, এসব মন্তব্য ও অপমানজনক প্রচারণা তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় এবং দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র উদ্বেগ ও মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে থাকতে বাধ্য করে।
জুলির ভাষ্য অনুযায়ী, এই মানসিক চাপ এতটাই তীব্র ছিল যে শেষ পর্যন্ত তিনি তার অনাগত সন্তানকে হারান। তিনি বলেন, সন্তান হারানোর ঘটনা তার জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডিগুলোর একটি এবং এর পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলা ধারাবাহিক হয়রানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
অভিনেত্রী জুলি বলেন, “আমার সন্তান হারানোর জন্য বিজয় আন্না দায়ী।” তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে থালাপতি বিজয় সরাসরি কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন না। তার অভিযোগ মূলত বিজয়ের সমর্থকদের একটি অংশকে ঘিরে। জুলির দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তারা তাকে লক্ষ্য করে অনলাইনে আক্রমণ চালিয়ে গেলেও বিজয় কখনো তাদের থামানোর উদ্যোগ নেননি বা প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি।
তার মতে, একজন জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতা ও জননন্দিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিজয়ের উচিত ছিল তার অনুসারীদের দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানানো। কিন্তু তা না হওয়ায় পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে গেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে জুলি এ বিষয়ে পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দায়ের করেছিলেন। অভিযোগপত্রে তিনি আটজনের নাম উল্লেখ করেন, যাদের বিরুদ্ধে অনলাইন হয়রানি ও মানহানির অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে তাকে জানানো হয়, ঘটনাটি ফৌজদারি অপরাধের আওতায় নয়; বরং দেওয়ানি মানহানির বিষয় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
জুলি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর তাকে নিয়ে নতুন করে নানা গুজব ও অপপ্রচার ছড়িয়ে দেওয়া হয়। বিশেষ করে তথাকথিত “১৫ লাখ টাকার কিডনি কেলেঙ্কারি” সংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়ানো হয়। তার দাবি, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এমন প্রচারণা চালানো হয়েছে।
অভিনেত্রীর বক্তব্য, একজন জননেতার সমর্থকদের উচিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্বেষ ছড়ানোর পরিবর্তে গঠনমূলক আচরণ করা। তিনি মনে করেন, সমালোচকদের বিরুদ্ধে সংগঠিতভাবে আক্রমণ চালানোর বদলে জনগণের কল্যাণে কাজ করাই রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।
এদিকে জুলির এসব অভিযোগ নিয়ে এখন পর্যন্ত থালাপতি বিজয় বা তার রাজনৈতিক দল কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ জুলির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন, আবার অনেকেই তার অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
উল্লেখ্য, অভিনেত্রী জুলি তামিল বিনোদন জগতে পরিচিত মুখ। তিনি বিভিন্ন সময়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক বিষয়েও সরব ছিলেন। অন্যদিকে, জনপ্রিয় অভিনেতা থেকে রাজনীতিক হওয়া থালাপতি বিজয় বর্তমানে তামিলনাড়ুর অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ফলে তার নাম জড়িয়ে ওঠা এই অভিযোগ নতুন করে জনমত ও রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
সূত্র: বলিউড লাইফ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au