বাবাকে শেষ বিদায় জানাতে রোজারিওতে মেসি
মেলবোর্ন, ৯ আগষ্ট: বাবা হোর্হে মেসিকে শেষ বিদায় জানাতে আর্জেন্টিনার রোজারিওতে পৌঁছেছেন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি। স্থানীয় সময় শনিবার রাত ৮টা ৪০…
মেলবোর্ন, ১২ জুন- প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে বৈদেশিক ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং বিভিন্ন খাতে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ ভবিষ্যতে আর্থিক শৃঙ্খলার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বাজেটে বেশ কিছু ইতিবাচক নীতিগত দিক থাকলেও এর সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, এবারের বাজেটে মানবিক অর্থনীতি গঠন, উদারীকরণ, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, যুবসমাজের উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হয়েছে। এসব লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন খাতে বরাদ্দও রাখা হয়েছে। তবে এসব নীতিগত অঙ্গীকার বাস্তবায়নের জন্য যে আর্থিক কাঠামো প্রয়োজন, সেটি এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী নয় বলে তার অভিমত।
তিনি বলেন, সরকার অর্থনৈতিক নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য যে আর্থিক কাঠামো প্রণয়ন করেছে, তার মধ্যে বৈদেশিক ঋণের ওপর উল্লেখযোগ্য নির্ভরতা দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে বড় আকারের থোক বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
তার মতে, বাজেটে বৈদেশিক ঋণ গ্রহণের প্রবণতা বাড়লে ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হলে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিত করা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, বাজেটের লক্ষ্য ও দর্শন ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়ন সক্ষমতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, অনেক সময় উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবায়নে নানা সীমাবদ্ধতা দেখা দেয়। ফলে কেবল বরাদ্দ ঘোষণা করলেই হবে না, বরং সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতার মাধ্যমে তা বাস্তবে রূপ দিতে হবে।
তিনি বলেন, সংস্কার কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সরকার কতটা দক্ষতার সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন করতে পারে, সেটিই আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বাজেটের প্রকৃত সাফল্য নির্ধারিত হবে জনগণের জীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার সক্ষমতার মাধ্যমে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে আরও সতর্ক ও পরিকল্পিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, ব্যয়ের দক্ষতা নিশ্চিতকরণ এবং ঋণ ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য রক্ষা আগামী অর্থবছরে সরকারের জন্য অন্যতম প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au