মেলবোর্ন, ১৭ জুন- বিশ্বকাপ ২০২৬-এ নতুন আশার আলো নিয়ে মাঠে নামছে পর্তুগাল। ছয়টি বিশ্বকাপ খেলা কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জন্য এটি হতে পারে ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ইউরো ও নেশনস লিগ জয়ের স্বাদ পেলেও বিশ্বকাপ ট্রফি এখনো অধরা থাকায় এবার সেই অপূর্ণতা ঘোচানোর লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামছে ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দলটি।
পর্তুগিজ ফুটবলের ইতিহাসে ইউসেবিও, লুইস ফিগো, রুই কোস্তাদের মতো কিংবদন্তিরা বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়ালেও বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা হয়নি কখনো। ১৯৬৬ সালে ইউসেবিওর হাত ধরে তৃতীয় স্থান অর্জন ছিল দীর্ঘদিনের সেরা সাফল্য। এরপর ফিগোদের ‘স্বর্ণালী প্রজন্ম’ও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।
বর্তমান পর্তুগাল দলকে অবশ্য সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কোচ রবার্তো মার্তিনেজের অধীনে দলটি রক্ষণাত্মক কৌশল থেকে বেরিয়ে আক্রমণভিত্তিক ও আধুনিক ফুটবলে অভ্যস্ত হয়েছে। তার ৪-৩-৩ ফরমেশনে মাঝমাঠই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি।

ছবিঃ সংগৃহীত
মাঝমাঠে আছেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ, যিনি সৃজনশীলতা ও গোল তৈরির ক্ষেত্রে দলের প্রধান ভরসা। তার সঙ্গে রয়েছেন প্যারিস সেন্ট জার্মেইর দুই তারকা ভিতিনিয়া ও হোয়াও নেভেস। পাশাপাশি ম্যানচেস্টার সিটির অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার বের্নার্দো সিলভাও দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।
রক্ষণভাগে ম্যানচেস্টার সিটির রুবেন দিয়াস, স্পোর্টিং সিপির গঞ্জালো ইনাসিও এবং পিএসজির নুনো মেন্ডেস পর্তুগালের আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছেন। গোলপোস্টের নিচে আছেন নির্ভরযোগ্য গোলরক্ষক দিওগো কোস্তা।
আক্রমণে রাফায়েল লেয়াও, ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও ও পেদ্রো নেতোর গতিময়তা এবং সৃজনশীলতা প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তবে সব আলোই থাকবে ৪১ বছর বয়সী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ওপর। বয়স বাড়লেও গোল করার ক্ষুধা এবং নেতৃত্বগুণ এখনো তাকে দলের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে রেখেছে।

ছবিঃ সংগৃহীত
তবে পর্তুগালের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। মাঝমাঠে শারীরিক শক্তিনির্ভর রক্ষণাত্মক মিডফিল্ডারের অভাব এবং রোনালদোর সীমিত প্রেসিং সামর্থ্য নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বিশ্লেষকদের। তা সত্ত্বেও তারকাবহুল স্কোয়াড, অভিজ্ঞ কোচ এবং শক্তিশালী দলগত সমন্বয় পর্তুগালকে এবারের বিশ্বকাপের অন্যতম দাবিদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
আরও একটি আবেগঘন বিষয় দলটিকে উজ্জীবিত করছে। সম্প্রতি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ফরোয়ার্ড ডিওগো জোটার স্মৃতিকে সামনে রেখেই বিশ্বকাপ মিশনে নেমেছে পর্তুগাল। কোচ রবার্তো মার্তিনেজ দল ঘোষণার সময় বলেছিলেন, “এটি ২৬ জনের নয়, ২৭ জনের দল। ডিওগো জোতা আমাদের সঙ্গে আছেন।”
গ্রুপ পর্বে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, উজবেকিস্তান ও কলম্বিয়ার বিপক্ষে খেলবে পর্তুগাল। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও প্রতিটি ম্যাচই কঠিন পরীক্ষার হতে পারে।
ইউসেবিওর অশ্রু, ফিগোদের অপূর্ণতা আর রোনালদোর দীর্ঘ অপেক্ষার ইতিহাস বয়ে চলা পর্তুগাল এবার নতুন স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে। প্রশ্ন একটাই, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ কি পর্তুগালকে এনে দিতে পারবে সেই বহু প্রতীক্ষিত সোনালি ট্রফি?
সুত্রঃ বিবিসি