দীর্ঘ বিরতির পর পর্দায় ফিরছেন কোয়েল-পরমব্রত জুটি
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্টঃ দীর্ঘদিন পর আবারও একসঙ্গে পর্দায় ফিরছেন ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় জুটি কোয়েল মল্লিক ও পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘হইচই’-এর নতুন একটি চলচ্চিত্রে…
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট- বাংলাদেশে বিদ্যমান অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করে নতুন অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বর্তমানে দেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব করা হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়কে নিয়মিত অর্থবছর হিসেবে কার্যকর করা হবে। এর আগে ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে পরিবর্তনের মধ্যবর্তী বা রূপান্তরকালীন অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং ওই অর্থবছর নয় মাসে, অর্থাৎ জুলাই ২০২৭ থেকে মার্চ ২০২৮ পর্যন্ত চলবে।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অর্থবছর গণনা করা হয়। তবে এই সময়সূচির কারণে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময় বর্ষাকালের সঙ্গে মিলে যায়। বিশেষ করে জুলাই ও আগস্টে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও বর্ষার কারণে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন বাধাগ্রস্ত হয়।
সরকারের বিবেচনায়, বর্ষাকালে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ চলতে থাকায় একদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় বাড়ে, অন্যদিকে কাজের গুণগত মানও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন নির্মাণ ও অবকাঠামোগত কাজ চলার কারণে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়ে।
নতুন অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চ করা হলে বর্ষা শুরুর আগেই বছরের বড় একটি অংশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নির্মাণকাজ শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সরকার। এ কারণে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে অর্থবছর হিসেবে নির্ধারণ করা যুক্তিযুক্ত বলে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থবছরের এই পরিবর্তন একবারে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে রূপান্তরকালীন অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ওই অর্থবছর শুরু হবে ২০২৭ সালের ১ জুলাই এবং শেষ হবে ২০২৮ সালের ৩১ মার্চ।
অর্থাৎ প্রচলিত ১২ মাসের পরিবর্তে ২০২৭-২৮ অর্থবছরের মেয়াদ হবে নয় মাস। এরপর ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে শুরু হবে ২০২৮-২৯ অর্থবছর। নতুন নিয়ম অনুযায়ী সেটি শেষ হবে ২০২৯ সালের ৩১ মার্চ। এরপর থেকে প্রতি বছর ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়কে বাংলাদেশের অর্থবছর হিসেবে গণনা করা হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নতুন অর্থবছর চালুর সঙ্গে সরকারের বাজেট প্রণয়ন, রাজস্ব আদায়, সরকারি ব্যয়, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং আর্থিক হিসাব-নিকাশের বিভিন্ন কার্যক্রমের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে।
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বিভাগের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এ কমিটি কাজ করবে।
কমিটি অর্থবছর পরিবর্তনের ফলে সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণ করবে। একই সঙ্গে পরিবর্তনটি নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও সময়সূচিও নির্ধারণ করা হবে।
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের কারণে বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানেও প্রয়োজনীয় সংশোধন করতে হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান এবং জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।
এ ছাড়া সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। সরকারি হিসাব ব্যবস্থাপনা, বাজেট, রাজস্ব আদায়, ব্যয় ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সফটওয়্যার ও তথ্যভান্ডারের সময়সীমা নতুন অর্থবছরের সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে হবে।
অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের কারণে বেসরকারি খাত, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণেও পরিবর্তন আসতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সরকার।
সরকারের সিদ্ধান্তের মূল কারণ হিসেবে বর্ষাকালকে সামনে রেখে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বর্তমানে অর্থবছরের শেষ দুই-তিন মাসে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের চাপ বেড়ে যায়। একই সময়ে বর্ষাকাল শুরু হওয়ায় অনেক প্রকল্পে কাজের গতি কমে যায় এবং প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হয়।
নতুন অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চ হলে বছরের শুরুতেই উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ শুরু করে বর্ষা আসার আগেই গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ করার সুযোগ থাকবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়ার পাশাপাশি কাজের মান উন্নত হবে এবং বর্ষাকালে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও কমবে বলে আশা করছে সরকার।
তবে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন একটি বড় প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কার। এ কারণে শুধু অর্থবছরের শুরু ও শেষের তারিখ পরিবর্তন করলেই হবে না, বাজেট প্রণয়ন থেকে শুরু করে সরকারি হিসাব, রাজস্ব আদায়, ব্যাংকিং কার্যক্রম, কর ব্যবস্থা, উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদন প্রস্তুতের পুরো কাঠামো নতুন সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭-২৮ সালের নয় মাসের রূপান্তরকালীন অর্থবছরের পর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন পদ্ধতিতে পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু হবে। ফলে ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় নতুন অর্থবছর কাঠামো কার্যকর হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au