অবসরের সময়সীমা জানালেন রোনালদো, শেষ হতে পারে ২০২৬ সালেই
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্টঃ বর্ণাঢ্য ফুটবল ক্যারিয়ারের শেষ প্রান্তে এসে অবসরের সময়সীমার ইঙ্গিত দিয়েছেন পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড জানিয়েছেন, ২০২৬ সালই হতে…
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্ট- ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার বিখ্যাত হিন্দু তীর্থস্থান তারাপীঠ মন্দিরসংলগ্ন একটি পাঁচতলা আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত আটজন পুণ্যার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার ভোরে ‘বিদেশিনী’ নামের হোটেলটিতে আগুন লাগার পর ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হোটেলটির ভেতর থেকে ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। উদ্ধার করা আহতদের দ্রুত রামপুরহাটের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত আটজনের মধ্যে পাঁচজন ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বাসিন্দা। অপর তিনজন পশ্চিমবঙ্গের আলিপুরদুয়ার জেলার বাসিন্দা। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাধক বামাক্ষ্যাপার সাধনাভূমি হিসেবে পরিচিত তারাপীঠ মন্দির এবং তারাপীঠ থানার কাছেই হোটেলটির অবস্থান। শ্রাবণ মাস উপলক্ষে শিবপূজা ও মা তারা মন্দিরে পূজা দিতে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থী তারাপীঠে এসেছেন। তাদের অনেকেই মন্দিরসংলগ্ন বিভিন্ন আবাসিক হোটেলে অবস্থান করছিলেন।
সোমবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে পাঁচতলা হোটেলটিতে হঠাৎ চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভবনটির বিভিন্ন অংশ ঘন কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা অনেক পুণ্যার্থী পরিস্থিতি বুঝে ওঠার আগেই হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে আটকা পড়েন।
আগুন প্রথমে হোটেলের সামনের অংশে থাকা রেস্তোরাঁয় ছড়িয়ে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এতে সামনের দিক দিয়ে বের হওয়ার পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে হোটেলের পেছনের জরুরি বহির্গমন দরজাটিও তালাবদ্ধ ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে আগুন ও ধোঁয়ার মধ্যে আটকা পড়া অনেকেই বের হওয়ার পথ না পেয়ে বিপাকে পড়েন।
প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন পুণ্যার্থী হোটেলের ব্যালকনি থেকে পাশের গাছ বেয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেন। কেউ কেউ নিচে লাফ দিয়েও নিজেদের রক্ষা করেন। এ সময় বেশ কয়েকজন আহত হন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে হোটেলের বিভিন্ন তলা থেকে ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ভবনের বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেন উদ্ধারকারীরা।
এ ঘটনায় হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলের ফায়ার অ্যালার্ম কাজ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। পাশাপাশি জরুরি বহির্গমন পথ তালাবদ্ধ থাকার অভিযোগও সামনে এসেছে। ফলে হোটেলটি অগ্নিনির্বাপণ ও নিরাপত্তাবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে পশ্চিমবঙ্গের ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্তে অগ্নিকাণ্ডের উৎসের পাশাপাশি হোটেলের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, জরুরি বহির্গমন পথ, ফায়ার অ্যালার্ম এবং অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হবে। একই সঙ্গে অগ্নিকাণ্ডের সময় হোটেলে কতজন অতিথি ছিলেন এবং তাদের নিরাপদে বের করে আনার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে।
তারাপীঠে শ্রাবণ মাসে প্রতিবছরই বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। এমন সময়ে মন্দিরসংলগ্ন আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ এই অগ্নিকাণ্ডে আটজনের মৃত্যুতে তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au