ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৯৭১…
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডে একই পরিবারের মা ও তিন মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে এক ব্যক্তি। পরে ক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ওই হামলাকারীও। বৃহস্পতিবার সকালে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে।
নিহতরা হলেন শাহীনুর বেগম, তার তিন মেয়ে সায়মা আক্তার, শিফা আক্তার ও ইকরা আক্তার। হামলাকারী অনন্ত মজুমদারও গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। পুলিশ নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার বাসিন্দা শাহীনুর বেগম প্রায় ১২ থেকে ১৪ বছর ধরে রায়পুরে বসবাস করছিলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি সন্তানদের নিয়ে আমির হোসেন মাস্টারের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। ২০১৯ সালে তার স্বামী মো. কামাল বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যাওয়ার পর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি সংসার চালিয়ে আসছিলেন।
অন্যদিকে, হামলাকারী অনন্ত মজুমদার স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় দেড় বছর একই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। সাত থেকে আট মাস আগে তিনি ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি শাহীনুর বেগমের বাসায় যান।
পুলিশ জানায়, বাসায় প্রবেশ করেই অনন্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহীনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম ও তার বড় মেয়ে সায়মা আক্তারের মৃত্যু হয়। সায়মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় শাহীনুরের আরেক মেয়ে শিফা আক্তারকে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কলেজছাত্রী ইকরা আক্তারকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তারও মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন হামলাকারী অনন্ত মজুমদারকে আটক করে গণপিটুনি দেয়। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার কার্তিক মজুমদারের ছেলে এবং পেশায় ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা ছিলেন।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটপাটকেলে সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রায়পুর বণিক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম মুরাদ বলেন, নিহত শাহীনুর বেগমের একমাত্র ছেলে সিফাত হোসেন তার প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। ঘটনার সময় তিনি কর্মস্থলে ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের হত্যার খবর পেয়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং কারও সঙ্গে কথা বলার অবস্থায় ছিলেন না।
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বাহারুল আলম বলেন, হাসপাতালে পাঁচজনকে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মা ও দুই মেয়ে মারা যান। পরে গুরুতর আহত আরেক মেয়েকে ঢাকায় পাঠানো হলে পথেই তার মৃত্যু হয়। নিহতদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রাশেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
লক্ষ্মীপুরের পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক বলেন, বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনন্ত মজুমদার আগে ওই এলাকায় ভাড়া থাকতেন। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরেই তিনি ঘটনাস্থলে এসেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাণী নামে এক প্রতিবেশী তাকে বাড়িতে দেখে সন্দেহ করেন এবং স্থানীয়দের খবর দেন। এরপর ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ধারণা, প্রেমঘটিত বিরোধ অথবা অর্থনৈতিক লেনদেনসংক্রান্ত কোনো বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au