ঐচ্ছিক অনুদানের তালিকার দুই জায়গায় জামায়াত এমপির মেয়ের নাম
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের ঐচ্ছিক অনুদান তহবিলের একটি তালিকায় তার মেয়ের নাম দুইবার থাকার অভিযোগকে…
মেলবোর্ন, ২৮ জুন- ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে যাত্রাবিরতির সময় অসাবধানতাবশত দুই বছর বয়সী এক শিশুকে রেস্তোরাঁয় রেখেই কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয় পাকিস্তান থেকে আসা একটি পর্যটক পরিবার। পরে প্রায় ছয় ঘণ্টা পর বিষয়টি বুঝতে পেরে ফিরে এসে শিশুটিকে নিজেদের কাছে নিয়ে যায় তারা।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকার জাইতুন রেস্তোরাঁয় এ ঘটনা ঘটে।
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ জানায়, পাকিস্তানের করাচি থেকে ১১ সদস্যের একটি পরিবার গত বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে বেড়াতে আসে। ঢাকায় একদিন অবস্থান করার পর শনিবার ভোরে দুটি গাড়িতে করে তারা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা দেয়। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কুমিল্লার জাইতুন রেস্তোরাঁয় নাশতার জন্য যাত্রাবিরতি নেয় পরিবারটি।
নাশতা শেষে সবাই দ্রুত গাড়িতে উঠে যাত্রা শুরু করলেও ভুলবশত দুই বছর বয়সী শিশুটিকে রেস্তোরাঁর ভেতরেই রেখে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর শিশুটি কান্না শুরু করলে রেস্তোরাঁর কর্মীরা বিষয়টি বুঝতে পারেন। পরে তারা শিশুটিকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং মোবাইল ফোনে ভিডিও ও খেলার মাধ্যমে তাকে ব্যস্ত রাখেন, যাতে সে আতঙ্কিত না হয়।
ঘটনার বিষয়টি জানিয়ে রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট প্রকাশ করে। একই সঙ্গে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়।
রেস্তোরাঁর স্বত্বাধিকারী এ কে এম লুৎফুর রহমান জানান, দুটি গাড়ির একটিতে শিশুটির বাবা এবং অন্যটিতে তার মা ছিলেন। মা ভেবেছিলেন শিশুটি বাবার সঙ্গে রয়েছে, আর বাবা ভেবেছিলেন শিশুটি মায়ের গাড়িতেই আছে। এ ভুল বোঝাবুঝির কারণেই শিশুটিকে রেস্তোরাঁয় ফেলে রেখে তারা চলে যায়।
তিনি আরও জানান, পরিবারটি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেল অতিক্রম করে চা-পানের জন্য আবার যাত্রাবিরতি দিলে তখন শিশুটিকে না দেখে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রেস্তোরাঁর দেওয়া পোস্ট দেখতে পেয়ে দ্রুত যোগাযোগ করে। ভিডিও কলে শিশুটির সঙ্গে কথা বলার পর দুপুর আড়াইটার দিকে কুমিল্লায় ফিরে এসে তাকে নিয়ে যায়।
লুৎফুর রহমান বলেন, শিশুটিকে এক মুহূর্তের জন্যও আতঙ্কিত হতে দেওয়া হয়নি। শুরুতে সে বাবা-মায়ের জন্য কান্না করছিল। পরে কর্মীরা তার সঙ্গে খেলাধুলা করেন এবং ভিডিও দেখিয়ে তাকে হাসিখুশি রাখেন। শেষ পর্যন্ত শিশুটি নিরাপদে মায়ের কোলে ফিরে যেতে পেরেছে, এটিই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
রেস্তোরাঁর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরিবারটির ১১ সদস্য, দুই গাড়ির চালকসহ অন্তত ১৪ জন একসঙ্গে নাশতা করছিলেন। খাওয়া শেষে গল্প-আড্ডার মধ্যেই সবাই গাড়িতে উঠে চলে যান। সেই ব্যস্ততার মধ্যেই শিশুটিকে রেস্তোরাঁয় রেখে যাওয়ার ঘটনাটি ঘটে।
রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানি পরিবারটি করাচি থেকে বাংলাদেশে ১২ দিনের ভ্রমণে এসেছে। তারা কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখার পরিকল্পনা করেছে। তবে ভ্রমণের শুরুতেই এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার মুখোমুখি হতে হয় পরিবারটিকে। শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে নিরাপদে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au