নতুন হামলার জেরে হরমুজ প্রণালিতে কমেছে জাহাজ চলাচল
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই: যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে হামলার পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আরও…
মেলবোর্ন, ২১ জুলাই: অস্ট্রেলিয়ার ডানপন্থী রাজনৈতিক দল ওয়ান নেশন-এর নেতা সিনেটর পলিন হ্যানসন বলেছেন, সুযোগ পেলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম অভিবাসন নিয়ে আবারও বিতর্কিত মন্তব্য করে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পার্থে এক ব্যবসায়িক প্রাতঃরাশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হ্যানসন বলেন, “আমি যদি কখনও প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পাই, যা পরবর্তী নির্বাচনের পরও হতে পারে, তাহলে আমি সেই দায়িত্ব পালন করতে পারব। এ নিয়ে আমার কোনো সন্দেহ নেই।” তার এই বক্তব্যে উপস্থিত দর্শকদের একাংশ করতালি দিয়ে সমর্থন জানান।
বক্তব্যে পলিন হ্যানসন দাবি করেন, অস্ট্রেলিয়ায় মুসলিম অভিবাসন একটি বড় সমস্যা এবং এটি “ঘরের হাতি” (Elephant in the room), অর্থাৎ এমন একটি বাস্তবতা যা নিয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে চান না।
তিনি বলেন, “আমি চাই না উগ্র ইসলামপন্থী দেশগুলো থেকে মানুষ অস্ট্রেলিয়ায় আসুক।”
তার দাবি, বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় প্রায় ১৮ হাজার মানুষ নিরাপত্তা সংস্থার নজরদারি তালিকায় রয়েছে এবং দেশটিতে উগ্রপন্থার সমস্যা বেড়েছে। তিনি অতীতে অস্ট্রেলিয়ায় সংঘটিত কয়েকটি সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে West Australian-এর সম্পাদক ক্রিস ডোর জানতে চান, মুসলিম অভিবাসন সীমিত করার তার প্রস্তাব কি অতীতের White Australia Policy-এর মতো নয়?
জবাবে হ্যানসন দৃঢ়ভাবে তা অস্বীকার করেন।
তিনি বলেন, “না, এর সঙ্গে হোয়াইট অস্ট্রেলিয়া নীতির কোনো সম্পর্ক নেই। এমন তুলনা করবেন না।”
গাজা থেকে আশ্রয়প্রার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় আনার সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন তিনি। তার ভাষায়, মাত্র ২৪ ঘণ্টার যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে কারা দেশে প্রবেশ করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের অভিবাসন নীতির অভিজ্ঞতা থেকে অস্ট্রেলিয়ার শিক্ষা নেওয়া উচিত।
পলিন হ্যানসন বলেন, তিনি ক্ষমতায় থাকলে অস্ট্রেলিয়ার রাস্তায় ফিলিস্তিনের পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ করার অনুমতি দিতেন না।
তার বক্তব্য, “আপনি যদি প্রতিবাদ করতে চান, তাহলে ফিলিস্তিনে গিয়ে করুন, আমাদের রাস্তায় নয়।”
সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সফরে বিতর্কিত কট্টর-ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসন-এর সঙ্গে তার সাক্ষাৎ নিয়েও আলোচনা হয়।
হ্যানসন বলেন, তিনি বিভিন্ন মতের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং শুধুমাত্র নিজের মতের মানুষের সঙ্গে কথা বলাই একজন রাজনীতিকের কাজ নয়।
তার ভাষায়, “আমি যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলাম দেখতে, যখন একটি সরকার অভিবাসন, ব্যয় এবং জ্বালানি নীতিতে ভুল করে, তখন কী ঘটে।”
বক্তব্যে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথাও তুলে ধরেন হ্যানসন। তিনি বলেন, ক্যানবেরার রাজনীতির চেয়ে ইপসউইচে নিজের মাছ ও চিপসের দোকান পরিচালনা করে তিনি জীবনের অনেক বেশি শিক্ষা পেয়েছেন।
তিনি জানান, ১৫ বছর বয়সে স্কুল ছেড়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। পরে স্বামীর সঙ্গে একটি প্লাম্বিং ব্যবসা শুরু করেন এবং একসময় একক মা হিসেবে নিজের টেকঅ্যাওয়ে দোকান পরিচালনা করেন।
তার অভিযোগ, ক্যানবেরার অনেক রাজনীতিক কখনও ছোট ব্যবসা পরিচালনা করেননি, তাই বাস্তব জীবনের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তাদের ধারণা সীমিত।
অস্ট্রেলিয়ার ধনকুবের ব্যবসায়ী জিনা রাইনহার্ট সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে হ্যানসন বলেন, তিনি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার জন্য বিপুল কর্মসংস্থান, কর ও রয়্যালটি নিশ্চিত করেছেন।
বিদেশ সফরের ব্যয় কে বহন করেছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমার বিদেশ সফরে করদাতাদের এক সেন্টও খরচ হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, জিনা রাইনহার্ট একজন দেশপ্রেমিক অস্ট্রেলিয়ান এবং নিজের পরিশ্রমে ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au