জম্মু-কাশ্মীরের অনন্তনাগে সন্ত্রাসী হামলায় পুলিশ সদস্য নিহত
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- জম্মু ও কাশ্মীরের দক্ষিণাঞ্চলের অনন্তনাগ জেলায় সন্ত্রাসী হামলায় এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) দুপুরে এই হামলার ঘটনা ঘটে।…
মেলবোর্ন, ২২ জুলাই- যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব ধরনের জেনেরিক ওষুধের ওপর ধাপে ধাপে সর্বোচ্চ ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও নতুন এ নীতি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না, তবে ২০২৮ সালের ১ আগস্ট থেকে স্থায়ীভাবে ২০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের বৃহত্তম জেনেরিক ওষুধ রপ্তানিকারক দেশ ভারতীয় ওষুধ শিল্পে।
বিস্তারিত প্রতিবেদন:
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন বাড়ানো এবং দেশীয় উৎপাদকদের সুরক্ষা দিতেই এ শুল্কনীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ঘোষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ আগস্ট থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া সব জেনেরিক ওষুধের ওপর কোনো শুল্ক আরোপ করা হবে না। এরপর ২০২৭ সালের আগস্ট থেকে এক বছরের জন্য ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। সর্বশেষ ২০২৮ সালের ১ আগস্ট থেকে আমদানিকৃত জেনেরিক ওষুধের ওপর স্থায়ীভাবে ২০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদন পুনরুজ্জীবিত করাই এই নীতির মূল উদ্দেশ্য। যেসব কোম্পানি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন কারখানা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণে এগিয়ে আসবে না, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তবে পেটেন্টকৃত, ব্র্যান্ডেড বা উদ্ভাবনী ওষুধের ক্ষেত্রে বর্তমান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
জেনেরিক ওষুধ হলো কোনো ব্র্যান্ডেড ওষুধের সমমানের বিকল্প, যাতে একই সক্রিয় উপাদান (API) থাকে এবং একই ধরনের কার্যকারিতা পাওয়া যায়। সাধারণত কোনো ওষুধের পেটেন্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একই উপাদান ব্যবহার করে কম দামে জেনেরিক সংস্করণ উৎপাদন করে।
ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
বিশ্বে জেনেরিক ওষুধ উৎপাদনে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী। কম খরচে মানসম্মত ওষুধ উৎপাদনের সক্ষমতার কারণে দেশটিকে দীর্ঘদিন ধরে ‘বিশ্বের ফার্মেসি’ বলা হয়ে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও ভারতীয় জেনেরিক ওষুধের আধিপত্য উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে মার্কিন বাজারে ব্যবহৃত জেনেরিক ওষুধের প্রায় ৪০ শতাংশই ভারত থেকে আমদানি করা হয়।
ভারতের সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটি প্রায় ২ হাজার ৫৮০ কোটি মার্কিন ডলারের জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি করেছে। এর মধ্যে শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৯৭০ কোটি ডলারের ওষুধ, যা ভারতের মোট জেনেরিক ওষুধ রপ্তানি আয়ের প্রায় ৩৮ শতাংশ।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হলে ভারতীয় ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তবে যেহেতু নতুন নীতি কার্যকর হতে এখনও প্রায় দুই বছর সময় রয়েছে, তাই ভারতীয় কোম্পানিগুলোর সামনে বিকল্প কৌশল গ্রহণ, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন সুবিধা গড়ে তোলা কিংবা নতুন বাজার সম্প্রসারণের সুযোগ থাকবে।
অন্যদিকে, বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, উচ্চ শুল্কের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জেনেরিক ওষুধের দামও বাড়তে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত দেশটির স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় এবং সাধারণ ভোক্তাদের ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র : এএফপি, এনডিটিভি
এসএমডব্লিউ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au