শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পেয়ে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখেন। ফাইল ছবি
মেলবোর্ন, ২৩ জুলাই: খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) বিজয় ’২৪ হলের নারী শিক্ষার্থীদের ওয়াশরুমে গোপনে একটি মোবাইল ফোন রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় হলের ক্যান্টিনে কর্মরত এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২২ জুলাই) রাতের এ ঘটনার পর আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাতের দিকে ওয়াশরুমে একটি সন্দেহজনক মোবাইল ফোন দেখতে পান কয়েকজন শিক্ষার্থী। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তারা সেটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং পরে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে হলের ক্যান্টিনকর্মী ইমাম হাসানকে আটক করেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ইমাম হাসান প্রায় দুই বছর ধরে বিজয় ’২৪ হলের ক্যান্টিনে কর্মরত রয়েছেন। ঘটনার খবর দ্রুত হলজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন ব্লকের শিক্ষার্থীরা সেখানে জড়ো হন। পরে অভিযুক্তকে হলের ভেতরে আটকে রেখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ শিক্ষার্থীদের
ঘটনার পর থেকেই নারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, একটি সংরক্ষিত নারী আবাসিক হলের ওয়াশরুমে এভাবে মোবাইল ফোন পাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি ব্যক্তিগত গোপনীয়তার ওপর গুরুতর আঘাত।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, নারী আবাসিক হলে বহিরাগত ব্যক্তি ও বিভিন্ন সেবাদানকারী কর্মীদের প্রবেশে কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার, সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
তদন্ত চলছে: হল প্রভোস্ট
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে বিজয় ’২৪ হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিনা আহমেদ বলেন, “ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।”
দ্রুত তদন্তের নির্দেশ উপ-উপাচার্যের
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান ঘটনাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।
তিনি বলেন, “সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, একজন বহিরাগত কীভাবে মেয়েদের হলের বাথরুমে প্রবেশ করতে পারল। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে হবে এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক (ডিএসএ) দপ্তর এবং হল প্রশাসনকে দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায়
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এদিকে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে নারী আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।