পেরিশিচের লাল কার্ডে ক্ষুব্ধ বিলিচ, কাঠগড়ায় কুকুরেয়া
স্পেনের কাছে ২-১ গোলে হারের হতাশার সঙ্গে ক্রোয়েশিয়ার কষ্ট আরও বাড়িয়েছে ইভান পেরিশিচের বিতর্কিত লাল কার্ড। ম্যাচের ৭৯ মিনিটে স্পেনের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়ার সঙ্গে সংঘর্ষের…
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম আক্তারকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় বুধবার তার জামিন আবেদন খারিজ করা হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালতে গাজী নজরুলের পক্ষে আইনজীবী মাহবুবুর রহমান, মিজানুর রহমানসহ অন্যরা জামিন আবেদন করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এর বিরোধিতা করে।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতে বলেন, গাজী নজরুল নির্দোষ এবং মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে মামলায় আসামি করা হয়েছে। তারা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় ডেকে নেওয়ার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
আইনজীবীদের দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করেও মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার কোনো প্রমাণ পুলিশ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি।
জামিন আবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী ও আসামিরা আত্মীয় এবং পারিবারিক আলোচনার মাধ্যমে তাদের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, ৭৫ বছর বয়সী গাজী নজরুল একজন প্রবীণ রাজনীতিক ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি হৃদরোগে গুরুতর অসুস্থ। তার স্থায়ী ঠিকানা রয়েছে এবং জামিন পেলে তিনি আত্মগোপনে যাবেন না বা দেশ ছেড়ে পালাবেন না বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবীরাও আদালতে একটি সমঝোতা চুক্তি জমা দেন।
চুক্তিতে মরিয়মের বাবা উল্লেখ করেন, মেয়ের মৃত্যুর পর তাৎক্ষণিক সন্দেহের ভিত্তিতে তিনি গাজী নজরুল, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন।
পরে পারিবারিক আলোচনার পাশাপাশি অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করে তিনি সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, গাজী নজরুল বা মাকসুদার প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেননি। এ কারণে আসামিদের জামিনে মুক্তিতে তার কোনো আপত্তি নেই বলেও তিনি জানান।
তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন-অর-রশীদ আদালতকে বলেন, পারস্পরিক সমঝোতা হলেও এ ধরনের মামলা আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তিযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, মামলার তদন্ত এখনো চলছে। মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে, তদন্তে এসব বিষয়ও পরিষ্কার হবে। ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলেও আদালতকে জানান তিনি।
এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর একই মামলায় গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে জামিন দেন আদালত।
গত ২০ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনসংলগ্ন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে গাজী নজরুল ও মাকসুদাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
ওই রাতেই মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ গাজী নজরুল, মাকসুদা ও ওবায়দুরের বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
পরদিন শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শামসুজ্জোহা সরকারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকসুদাকে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ওই রাতেই মামলাটির তদন্তভার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
২৩ সেপ্টেম্বর মামলায় গ্রেপ্তার ওবায়দুর রহমানকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au