অস্ট্রেলিয়া

১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ

  • 7:26 pm - August 01, 2026
  • পঠিত হয়েছে:১৮৩ বার
১৫০ বছর পর লাইব্রেরিতে বই ফেরত, জরিমানা ১৯ লাখ।

মেলবোর্ন, ১ আগস্ট: অস্ট্রেলিয়ার একটি পাবলিক লাইব্রেরিতে প্রায় ১৫০ বছর আগে ধার নেওয়া একটি বই অবশেষে ফেরত এসেছে। দীর্ঘ দেড় শতাব্দী পর বইটি ফিরে পাওয়ায় লাইব্রেরির পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী হিসাব করলে বিলম্ব ফি বা জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৯ লাখ টাকা। তবে এটি মূলত ঐতিহাসিক নিয়ম অনুসারে প্রতীকী হিসাব, প্রকৃতপক্ষে ওই অর্থ আদায় করা হচ্ছে না।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছে, ১৮৫৮ সালে প্রকাশিত ‘অ্যান্টিকুইটিজ অব এথেন্স’ নামের বিরল বইটি গত সপ্তাহে অস্ট্রেলিয়ার উপকূলীয় শহর কিয়ামার পাবলিক লাইব্রেরিতে ফেরত দেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। তিনি জানান, নিজের বাড়ি সংস্কারের সময় একটি পুরোনো ফায়ারপ্লেসের ভেতরে ইট দিয়ে বন্ধ করে রাখা একটি চায়ের বাক্সে বইটি খুঁজে পান।

কিয়ামা লাইব্রেরির ব্যবস্থাপক মিশেল হাডসন বলেন, লাইব্রেরির ১৮৭২ সালের নিয়ম অনুযায়ী বইটি সময়মতো ফেরত না দেওয়ার জন্য প্রতি সপ্তাহে তিন পেন্স বিলম্ব ফি নির্ধারিত ছিল। সেই নিয়ম এবং বর্তমান মুদ্রাস্ফীতির হিসাব বিবেচনা করলে জরিমানার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৯ লাখ টাকার সমান।

তিনি বলেন, “আমাদের লাইব্রেরির ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় পর কোনো বই ফেরত আসার ঘটনা এই প্রথম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন লাইব্রেরির এমন ঘটনা দেখেছি, তবে সাধারণত ৩০ বা ৪০ বছর পর বই ফেরত আসে। ১৫০ বছর পর বই ফেরত পাওয়ার ঘটনা সত্যিই বিরল।”

লাইব্রেরি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বইটি কে ধার নিয়েছিলেন, তা আর জানা সম্ভব নয়। কারণ, ১৮৭০-এর দশকের ধার নেওয়ার রেজিস্টার বা দিনলিপি বহু আগেই হারিয়ে গেছে। সেই নথিতেই বই ধার নেওয়া ব্যক্তিদের নাম ও তথ্য সংরক্ষিত ছিল। বইটির ভেতরেও এমন কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা থেকে সর্বশেষ গ্রহীতার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব।

মিশেল হাডসন আরও জানান, সেই সময়ের লাইব্রেরির নিয়ম ছিল, নতুন বই ধার নেওয়ার আগে আগের বই অবশ্যই ফেরত দিতে হবে এবং সব বকেয়া পরিশোধ করতে হবে। একটি পরিবার সর্বোচ্চ তিনটি বই ধার নিতে পারত, তবে শর্ত ছিল পরিবারের অন্তত ছয়জন সদস্য পড়তে জানেন। এছাড়া নেশাগ্রস্ত কাউকে বই ধার দেওয়া হতো না।

তিনি মজার ছলে বলেন, “হয়তো জরিমানার ভয়ে বইটি আর ফেরত দেওয়া হয়নি।”

দীর্ঘদিন চিমনির ভেতরে পড়ে থাকায় বইটির বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় বইটি এখন কিয়ামা লাইব্রেরির স্থানীয় ইতিহাস সংগ্রহশালায় সংরক্ষণ ও প্রদর্শন করা হবে।

লাইব্রেরির ব্যবস্থাপক বলেন, “এখন থেকে বইটি আর বাইরে যাবে না। এটিকে আবার ফেরত পাওয়ার জন্য আমরা আর ১৫০ বছর অপেক্ষা করতে চাই না।”

সুত্রঃ এনডিটিভি

এই শাখার আরও খবর

পারিবারিক বন্ধুর হামলায় পা হারালেন অস্ট্রেলিয়ার নারী এমপি, সর্বশেষ যা জানা যাচ্ছে

অস্ট্রেলিয়ায় স্বতন্ত্র নারী সংসদ সদস্য হেলেন হেইন্সকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে হামলাকারীর পরিচয় ঘিরে। ৬৫ বছর বয়সী এই এমপির ওপর…

ইরানে ফের হামলার ইঙ্গিত নেতানিয়াহুর, ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা

ইরানে আবারও হামলা চালানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তিনি ইরানের সরকারের পতন ঘটানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ…

যুদ্ধ এড়াতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন প্রস্তাব দিল পাকিস্তান ও কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের ঝুঁকি এড়াতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান ও কাতার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুই দেশের কাছে…

বিজয়া দশমী ও প্রতিমা বিসর্জন: বিদায়ের বেদনা, ঐতিহ্য, ধর্মীয় তাৎপর্য ও সম্প্রীতির মহামিলন

শরতের নির্মল আকাশ, সাদা কাশফুলের দোলা, শিউলি ফুলের স্নিগ্ধ সুবাস, ঢাকের মধুর বাদ্য আর চারদিকে উৎসবের আমেজ—এসবের মধ্য দিয়েই বাঙালির হৃদয়ে আবির্ভূত হয় শারদীয় দুর্গোৎসব।…

সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড: আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম

‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও, আমি ওরে দেহুম।’ সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া মেয়ে সুইটি আক্তারের…

ধামরাইয়ের ৫২০ কেজির অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমা, হবে না বিসর্জন

ওটিএন বাংলা ডেস্ক: ঢাকার ধামরাইয়ের বণিকবাড়িতে ৫২০ কেজি ওজনের অষ্টধাতুর দুর্গাপ্রতিমার পূজা চলছে। আগামীকাল বুধবার পূজা শেষে এটি দেওয়া হবে না বিসর্জন। এটিই এখানকার রীতি।…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au