রাষ্ট্র-মালিকানাধীন ৬ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা
রাষ্ট্র-মালিকানাধীন দেশের ছয়টি ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় দেড় লাখ কোটি টাকা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসিতে। গত ৩০…
মেলবোর্ন, ২ আগস্ট: গবেষণায় চুরি, তথ্য জালিয়াতি ও প্রকাশনা-সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সাময়িকী থেকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) অন্তত ১১টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার হওয়া এসব গবেষণাপত্রের তালিকায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদের নামও রয়েছে। বিষয়টি দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেন অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদ। তবে তার দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় আট মাস আগে, একই বছরের জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিন্দাউই তার সহলেখক হিসেবে প্রকাশিত দুটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করে।
প্রত্যাহার হওয়া একটি গবেষণাপত্রে দেশে উৎপাদিত শজনে বীজের নির্যাসের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। অন্য গবেষণাপত্রে সেলুলোজভিত্তিক ন্যানোকম্পোজিট ব্যবহার করে ক্ষতিকর উপাদান অপসারণ এবং জৈব অণু সুরক্ষায় এর কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সম্প্রতি প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের সম্পৃক্ত অন্তত ৩২৫টি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক জার্নাল থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। গবেষণায় অনিয়ম ও তথ্য জালিয়াতির অভিযোগে এসব গবেষণাপত্র বাতিল করা হয়।
প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান হিন্দাউই তাদের তদন্তে জানায়, সংশ্লিষ্ট গবেষণাগুলোতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগারভিত্তিক পরীক্ষা ছাড়াই গবেষণার তথ্য ও ফলাফল তৈরি করা হয়েছিল। উপস্থাপিত তথ্যের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কিংবা নির্ভরযোগ্যতারও কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এছাড়া তদন্তে আরও বলা হয়, গবেষণাপত্র দুটি তথাকথিত ‘পেপার মিল’ বা অর্থের বিনিময়ে গবেষণাপত্র তৈরি ও প্রকাশের ব্যবস্থা করে এমন একটি চক্রের মাধ্যমে প্রস্তুত বা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
হিন্দাউই আরও অভিযোগ করে, গবেষণাপত্র প্রকাশের আগে যে পিয়ার রিভিউ বা বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে স্বাধীন যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা, সেই প্রক্রিয়াতেও ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে বিভ্রান্ত করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট লেখকদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হলেও তাদের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক নয় বলে জানায় প্রতিষ্ঠানটি।
এদিকে, ২০২৪ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত ১০টি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার করা হয়। পরে ২০২৬ সালের মে মাসে আরও একটি গবেষণাপত্র প্রত্যাহার হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়টির নামে প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১টিতে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক মো. আবদুল মজিদ বলেন, গবেষণাপত্র প্রত্যাহারের বিষয়ে তার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। তার দাবি, তিনি গবেষণায় মূলত ধারণা বা আইডিয়া দেওয়ার কাজে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা প্রত্যাহারের কয়েকটি ঘটনার কথা শুনলেও যাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ছিল, তাদের গবেষণার জন্য কোনো পুরস্কার দেওয়া হয়নি বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা হয়নি।
প্রত্যাহার হওয়া গবেষণাপত্রগুলোর সঙ্গে শুধু যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নয়, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়, প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি, সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অল্টারনেটিভ (ইউডিএ), আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশ (এআইইউবি) এবং ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ-এর কয়েকজন শিক্ষক ও গবেষকের নামও রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান ডিয়েগোর নিউরোসায়েন্স বিভাগের গবেষক নাদিম মাহমুদ বলেন, উন্নত বিশ্বে গবেষণায় চুরি, তথ্য জালিয়াতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গুরুতর নৈতিক অপরাধ হিসেবে দেখা হয় এবং এর জন্য সংশ্লিষ্ট গবেষকদের কঠোর একাডেমিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়। তার মতে, বাংলাদেশেও গবেষণার মান ও বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষায় জবাবদিহি এবং কঠোর নৈতিক মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au