চাকরির আশায় কম্বোডিয়া, ১৭ দিন ‘স্ক্যাম সেন্টারে’ বন্দী
কম্পিউটারে ডেটা এন্ট্রির চাকরির আশায় দালালের মাধ্যমে কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন মো. শফিকুল ইসলাম। সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁর পাসপোর্ট ও মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে একটি…
মেলবোর্ন, ৪ আগস্ট: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো সাইক্লোস্পোরা পরজীবীজনিত সংক্রমণে দুইজনের মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করেছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাকে জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংক্রমণের উৎস শনাক্ত এবং এর বিস্তার রোধে তদন্ত আরও জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে মেক্সিকো থেকে আমদানি করা লেটুসকে সম্ভাব্য সংক্রমণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন তদন্তকারীরা।
মিশিগান স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ সোমবার (৩ আগস্ট) জানায়, মারা যাওয়া দুই ব্যক্তিরই আগে থেকে গুরুতর স্বাস্থ্যগত জটিলতা ছিল। সাইক্লোস্পোরা সংক্রমণের কারণে তারা তীব্র অন্ত্রের সংক্রমণ, দীর্ঘস্থায়ী ডায়রিয়া এবং মারাত্মক পানিশূন্যতায় ভুগছিলেন। তবে গোপনীয়তার কারণে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
মিশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটি এক্সটেনশন-এর খাদ্যনিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ওয়েড সায়ার্স বলেন, এই মৃত্যুর ঘটনা দ্রুত সংক্রমণের উৎস শনাক্ত করা এবং নতুন আক্রান্তের সংখ্যা কমিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। তার মতে, খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় কঠোর নজরদারি না থাকলে এ ধরনের সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগ জানিয়েছে, তারা মিশিগানের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তবে চলমান তদন্তের স্বার্থে সংক্রমণের উৎস সম্পর্কে এখনই বিস্তারিত কোনো নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) জানিয়েছে, সাইক্লোস্পোরা একটি অতি ক্ষুদ্র পরজীবী, যা দূষিত খাদ্য বা পানির মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এ সংক্রমণে সাধারণত তীব্র পানিযুক্ত ডায়রিয়া, ঘন ঘন মলত্যাগ, পেটব্যথা, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা, দুর্বলতা এবং পানিশূন্যতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। বসন্তের শেষ ভাগ থেকে গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি থাকে।
সিডিসি আরও জানিয়েছে, সাইক্লোস্পোরিয়াসিস নামে পরিচিত এই রোগে মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তাই যুক্তরাষ্ট্রে এবার প্রথমবারের মতো এ সংক্রমণে মৃত্যুর ঘটনা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের জন্য বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ফেডারেল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, মেক্সিকো থেকে আমদানি করা লেটুস, যা যুক্তরাষ্ট্রের পাঁচটি অঙ্গরাজ্যে টাকো বেল ফাস্টফুড চেইনের বিভিন্ন শাখায় পরিবেশন করা হয়েছিল, সেটিই সংক্রমণের প্রধান সম্ভাব্য উৎস। তবে তদন্তকারীরা অন্যান্য সম্ভাব্য উৎসও খতিয়ে দেখছেন।
সিডিসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২৮ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া সাইক্লোস্পোরিয়াসিস রোগীর সংখ্যা ৬ হাজার ৭০৭ জন। এছাড়া আরও ১১ হাজার ৫০০-এর বেশি সন্দেহভাজন সংক্রমণের ঘটনার তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে, মিশিগান অঙ্গরাজ্যে এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ১১ হাজার ২৩৪ জনে পৌঁছেছে। কয়েক দিন আগেও এই সংখ্যা ছিল মাত্র ৪৬১ জন। এখন পর্যন্ত অন্তত ১৯৩ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাজ্য কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কাঁচা শাকসবজি ও ফলমূল ভালোভাবে ধুয়ে খাওয়া, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে এ ধরনের সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে সংক্রমণের প্রকৃত উৎস শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট খাদ্যপণ্যের ওপর কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
সূত্র: আলজাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au