শেখ মুজিবকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট, রাজশাহীতে প্রভাষক সাময়িক বরখাস্ত। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৮ আগষ্টঃ শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে রাজশাহীর চারঘাটের নন্দনগাছী কলেজের এক প্রভাষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে কলেজ গভর্নিং বডির জরুরি সভায় গার্হস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক সোহেলী আক্তারকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জানা গেছে, গত শনিবার (১৫ আগস্ট) শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ‘গভীর শোক’ লেখা একটি ফটোকার্ড পোস্ট করেন সোহেলী আক্তার। ওই ফটোকার্ডে শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছিল। পোস্টের ক্যাপশনে তিনি লেখেন, ‘বিনম্র শ্রদ্ধা’।
প্রভাষক সোহেলী আক্তার বলেন, তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। রোববার ছুটি নিয়ে তিনি বাড়িতে ছিলেন। সোমবার কলেজে কী হয়েছে, সে বিষয়েও তাঁর কোনো বক্তব্য নেই বলে জানান তিনি।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (১৬ আগস্ট) কলেজে গিয়ে অধ্যক্ষের কাছে মৌখিকভাবে ছুটি নেন সোহেলী আক্তার। ওই দিন তাঁর ফেসবুক পোস্টটি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের নজরে আসে। পরে রাতে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সোমবার সকাল ১০টায় বিক্ষোভ মিছিলের ঘোষণা দেয় নন্দনগাছী কলেজ ছাত্রদল। সোমবার সকালে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কলেজে জড়ো হয়ে সোহেলী আক্তারের স্থায়ী বহিষ্কার ও তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পরে কলেজ গভর্নিং বডি জরুরি সভা করে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়।
নন্দনগাছী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদুর রহমান সাহেদ অভিযোগ করেন, সোহেলী আক্তার কলেজে আওয়ামী লীগের আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছেন। তাঁর বাবা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ছিলেন বলেও দাবি করেন তিনি। শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার কারণে তাঁরা ওই শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন।
কলেজের অধ্যক্ষ ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে প্রভাষক সোহেলী আক্তার ফেসবুকে এ ধরনের ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ পোস্ট দিতে পারেন না। কলেজের শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে তাঁকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলেজ গভর্নিং বডির সভাপতি ও চারঘাটের নিমপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বলেন, সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সোহেলী আক্তারকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তাঁকে এখনো শোকজ করা হয়নি, তবে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।