হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ১৯ আগষ্ট- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর শেষ পর্যন্ত না হলেও সফরকে সামনে রেখে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একটি বিস্তৃত প্রস্তুতি নিয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ১০ আগস্টের একটি সরকারি নথিতে মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখা ও ইউনিটের কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট হয়, সম্ভাব্য সফরে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বরং পানি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, চীন, রোহিঙ্গা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সমুদ্রনীতি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুও গুরুত্ব পেতে পারত।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগ থেকে ১০ আগস্ট ২০২৬ জারি করা ওই নথিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ওপর একটি হালনাগাদ ব্রিফ তৈরির জন্য বিভিন্ন শাখাকে ১৩ আগস্টের মধ্যে তথ্য দিতে বলা হয়। নথিতে থাকা বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে সম্ভাব্য ভারত সফরে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের একটি ধারণা পাওয়া যায়।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু পানি। সম্ভাব্য সফরের প্রস্তুতিতে জলবায়ু পরিবর্তন, কপ-৩০ ও কপ-৩১সহ জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
পাশাপাশি ভারত-বাংলাদেশ সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হয়। ফলে পানি ও জলবায়ু সহযোগিতা সফরের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারত বলে ধারণা করা যায়।
সম্ভাব্য সফরে অর্থনৈতিক সম্পর্কও বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হতে পারত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অনুবিভাগকে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি কূটনীতি নিয়ে হালনাগাদ তথ্য দিতে বলা হয়।
এ ছাড়া বহুপক্ষীয় ফোরাম, উন্নয়ন ব্যাংক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক অর্জন এবং স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের বিষয়ও ব্রিফে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
টাঙ্গাইল শাড়ির ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই স্বীকৃতির বিষয়টিও রাখা হয়েছিল। অর্থাৎ অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের নিজস্ব পণ্য ও বাণিজ্যিক স্বার্থও আলোচনার অংশ হতে পারত।
বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের সম্পর্কও সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতিতে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। চীনের সঙ্গে সাম্প্রতিক উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ, বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ, চীনা বিনিয়োগ এবং চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর তথ্য চাওয়া হয়।
এ থেকে বোঝা যায়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে শুধু দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক হিসেবে নয়, বৃহত্তর আঞ্চলিক কৌশলগত বাস্তবতার মধ্যেও দেখছিল ঢাকা। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত ও চীনের প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রোহিঙ্গা ইস্যুও সম্ভাব্য আলোচনার তালিকায় ছিল। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং এ প্রক্রিয়ায় ভারতের কাছ থেকে বাংলাদেশের প্রত্যাশিত সহযোগিতা সম্পর্কে তথ্য চাওয়া হয়।
পাশাপাশি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর ভূমিকার বিষয়টিও পর্যালোচনার আওতায় রাখা হয়। ফলে মিয়ানমার সংকট মোকাবিলায় ভারতের ভূমিকা বাড়ানোর বিষয়টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত।
সার্ক পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ও উদ্যোগ এবং বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারও সম্ভাব্য ভারত সফরের প্রস্তুতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
এ ছাড়া ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জোট আইওআরএতে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা এবং নীল অর্থনীতি নিয়েও তথ্য চাওয়া হয়। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা, সমুদ্রনিরাপত্তা ও সামুদ্রিক অর্থনীতির বিষয়গুলোও আলোচনার সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে উঠে আসে।
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিক যোগাযোগের পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতি সম্পর্কেও মূল্যায়ন চাওয়া হয়েছিল।
একইভাবে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং এ বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থানও ব্রিফে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অর্থাৎ সম্ভাব্য ভারত সফরের আলোচনাকে শুধু আঞ্চলিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত করার প্রস্তুতি ছিল।
ব্রিকস, কমনওয়েলথ, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশ ও ভারতের সহযোগিতা নিয়েও তথ্য চাওয়া হয়।
দুই দেশের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় প্রার্থিতা ও নির্বাচনী ইস্যুতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ও ব্রিফে রাখার কথা ছিল। এতে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক ফোরামে দুই দেশের সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়টিও বাংলাদেশের বিবেচনায় ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং এর প্রভাব নিয়েও বাংলাদেশ তার অবস্থান তুলে ধরতে চাইতে পারে। নথিতে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থান, ফিলিস্তিনের সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং বাংলাদেশ থেকে দেওয়া মানবিক সহায়তার তথ্য চাওয়া হয়।
এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারতের সম্পর্ক এবং সহযোগিতা নিয়েও তথ্য চাওয়া হয়েছিল। ফলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের আলোচনায় ইউরোপ ও বৈশ্বিক কূটনীতির প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় ছিল।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নরম শক্তির দিকটিও বাদ যায়নি। সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কূটনীতিতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার এবং ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক যোগাযোগের তথ্য চাওয়া হয়।
এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ সহযোগিতা নিয়েও তথ্য দিতে বলা হয়েছিল ফরেন সার্ভিস একাডেমিকে।
১০ আগস্টের নথিটি বিশ্লেষণ করলে সম্ভাব্য ভারত সফরে বাংলাদেশের আলোচনার বিষয়গুলোকে মোটামুটি কয়েকটি বড় ভাগে দেখা যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত পানি ও জলবায়ু, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন, আঞ্চলিক সহযোগিতা ও নিরাপত্তা। এর পাশাপাশি চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক, যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া নীতি, বহুপক্ষীয় কূটনীতি এবং সমুদ্রনীতি নিয়েও ভারতের সঙ্গে আলোচনা হতে পারত।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নথিটি কোনো চূড়ান্ত আলোচ্যসূচি বা সিদ্ধান্তের কাগজ নয়। এটি মূলত পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখার কাছে হালনাগাদ তথ্য চাওয়ার একটি নির্দেশনা। তাই এসব বিষয় সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা গেলেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার ঠিক কোন অবস্থান নিত বা কোন বিষয়ে কী ধরনের সমঝোতা চাইত, তা এই নথি থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।
নথিতে স্বাক্ষর করেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগের পরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া-১) মোহাম্মদ বাকী বিল্লাহ। সংশ্লিষ্ট শাখাগুলোকে ১৩ আগস্টের মধ্যে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড ফরম্যাটে তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের ভারত সফর হলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পুরোনো ইস্যু নয়, বরং পানি, অর্থনীতি, রোহিঙ্গা, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, আঞ্চলিক সহযোগিতা, সমুদ্রনীতি ও বৈশ্বিক কূটনীতিকে একই কাঠামোর মধ্যে এনে আলোচনা করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল বলে নথিটি থেকে ধারণা পাওয়া যায়।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au