হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাত বাংলাদেশির মধ্যে ছয়জনের লাশ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, ছয় বাংলাদেশির লাশ ভারত-বাংলাদেশের বেনাপোল ও ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে পাঠানো হবে। অন্য একজনের লাশ পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতাতেই সৎকার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের লাশ যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। তাঁরা হলেন কুষ্টিয়ার দেবাশীষ দত্ত, আফসানা শারমীন, শর্ণশীষ দত্ত, মো. আকরাম আলী এবং সাভারের আহামেদ বাবু। অপর নিহত বাংলাদেশি সাতক্ষীরার এস এম আলিমুজ্জামানের লাশ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে।
কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনার মো. খালেদ জানিয়েছেন, নিহতদের লাশ দেশে ফেরানোর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। শুক্রবার বিকালের মধ্যেই প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে লাশগুলো দেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব না হলে লাশগুলো শনিবার, ২২ আগস্ট পর্যন্ত সময় নিয়ে দেশে পাঠানো হতে পারে।
নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা রেবতী সরকারের লাশ পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে কলকাতাতেই সৎকারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, রেবতী সরকারের ছেলে তাঁর মায়ের লাশ দেশে না এনে কলকাতাতেই সৎকার করতে চান। তবে এ জন্য পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে সাত বাংলাদেশি নাগরিকসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহত অন্য দুজন ছিলেন ভারতের নাগরিক। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁদের লাশ দেশে ফেরানো এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেয় কলকাতাস্থ বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর কলকাতার মার্কুইস স্ট্রিট এলাকার হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ শুরু করেছে কলকাতা পুলিশ ও দমকল বিভাগ। ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকার অভিযোগে এলাকার আরও ১৭টি হোটেলের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে।
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগের পক্ষ থেকে নয়টি আবাসিক হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নতুন করে আরও ১৭টি হোটেলকে নোটিশ দেওয়ায় এখন পর্যন্ত মোট ২৬টি হোটেল ও চারটি রেস্তোরাঁ প্রশাসনের নজরদারির আওতায় এসেছে।
প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, আপাতত এসব হোটেল ও রেস্তোরাঁয় নতুন করে অতিথি রাখার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। অগ্নিকাণ্ডের পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন এবং ব্যবসা পরিচালনার বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।
কলকাতার ওই অগ্নিকাণ্ডের পর শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে পর্যটক ও বিদেশি নাগরিকদের থাকার হোটেলগুলোতে অগ্নিনিরাপত্তা বিধি যথাযথভাবে মানা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au