হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার সুনাই নদীতে আগামী ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠেয় নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবি জানিয়েছে ‘তৌহিদী জনতা’ নামে একটি গোষ্ঠী। অন্যদিকে আবহমান বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থানে রয়েছেন আয়োজকেরা। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে নানা ধরনের বক্তব্য ও লেখালেখি চলছে। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর এলাকার যুবসমাজের উদ্যোগে প্রতি বছরের মতো এবারও সুনাই নদীতে বার্ষিক নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই প্রতিযোগিতা স্থানীয় মানুষের কাছে বিনোদন ও ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে পরিচিত। অতীতে এ আয়োজন নিয়ে বড় ধরনের কোনো বাধার মুখে পড়তে হয়নি আয়োজকদের।
তবে এবার নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিরোধ দেখা দিয়েছে। ‘তৌহিদী জনতা’ ব্যানারে একটি গোষ্ঠী প্রতিযোগিতাটি বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্ট দিচ্ছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উত্তেজনা বাড়ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে লাউতা ইউনিয়নের গাংপাড় এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় যুবকেরা দীর্ঘদিন ধরে সুনাই নদীতে নৌকাবাইচের আয়োজন করে আসছেন। কিন্তু কয়েক দিন ধরে স্থানীয় যুবক জুয়েল, অপুসহ কয়েকজন ফেসবুকে নৌকাবাইচের বিরুদ্ধে লেখালেখি করছেন। এ কারণে পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আনন্দ ও বিনোদনের একটি আয়োজন। প্রতিবছর শত শত মানুষ নদীর তীরে এসে এই প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। তবে এবার ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবি ও হুমকির অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে গত বৃহস্পতিবার বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’-এর উদ্যোগে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে ২৮ আগস্টের নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গউস উদ্দিন বলেন, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, নৌকাবাইচ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখি হচ্ছে। তবে এর বাইরে তিনি বিস্তারিত কিছু জানেন না বলে জানান।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম বলেন, নৌকাবাইচ নিয়ে এমন কোনো ঘটনা বা প্রতিযোগিতা আয়োজনের বিষয়ে তিনি অবগত নন। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়রা বলছেন, নৌকাবাইচকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধ দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে যাতে কোনো পক্ষের সঙ্গে অন্য পক্ষের সংঘাত না হয় এবং এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au