হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ২২ আগষ্ট- শত্রুর হুমকি মোকাবিলায় ইরান একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষাবলয় গড়ে তুলেছে বলে দাবি করেছেন দেশটির ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান আহমাদ ভাহিদি। তাঁর ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতা আরও বাড়ানোর কৌশল অব্যাহত রাখাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
ইরানের জাতীয় প্রতিরক্ষাশিল্প দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া এক বার্তায় আহমাদ ভাহিদি এসব কথা বলেন। আলজাজিরার প্রতিবেদনে তাঁর বক্তব্যের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
আহমাদ ভাহিদি বলেন, ইরান বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন ধরনের সমন্বিত সামরিক আগ্রাসন ও বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখোমুখি হচ্ছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় দেশটি শত্রু এবং ক্ষতিকর উদ্দেশ্য নিয়ে কাজ করা শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে একটি শক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলেছে।
তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পেরও প্রশংসা করেন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থেকেও ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্প দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, আক্রমণাত্মক ক্ষমতা এবং প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
আহমাদ ভাহিদির এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বাড়ছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তাঁর ভাষায় ‘এখন পর্যন্ত নেওয়া সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ শুরু করার ঘোষণা দেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের লক্ষ্য হবে ইরানের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাত। এর মধ্যে তেল পাচারকারী নেটওয়ার্ক, অর্থ স্থানান্তর ব্যবস্থা, মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র, জাহাজ নিবন্ধন এবং বিভিন্ন নামে পরিচালিত ভুয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের তেল পাচার, অর্থ স্থানান্তর ও মুদ্রা বিনিময় কার্যক্রমের পাশাপাশি জাহাজ নিবন্ধন এবং ভুয়া প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। তিনি এই অভিযানকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওয়াশিংটনের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো দুর্বল হয়েছে। ৭৭ ডব্লিউএবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ নিয়ন্ত্রণ করছে এবং শিগগিরই তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, ইরানের নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দেশটির নেতৃত্বও দুর্বল হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি আবারও বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের কৌশলকে ব্যর্থ বলে দাবি করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, গত ১৪ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন নামে ইরানের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে আসছে। কিন্তু এসব উদ্যোগ ইরানকে নতি স্বীকার করাতে পারেনি।
সৈয়দ আব্বাস আরাগচির দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে ঘোষিত ‘সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান’ও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে। তাঁর ভাষায়, ইরান আগেও একই ধরনের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হয়েছে। কৌশল একই রয়েছে, শুধু চাপ প্রয়োগকারীদের নাম পরিবর্তন হয়েছে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করা পর্যন্ত তেহরান হরমুজ প্রণালি আবার খুলবে না।
ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ছেড়ে দেওয়া এবং তেল খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা।
ফলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক উত্তেজনার পাশাপাশি কূটনৈতিক চাপও বাড়ছে। একদিকে ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও জোরদার করার কথা বলছে, অন্যদিকে ইরান নিজেদের প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধক্ষমতা শক্তিশালী করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au