হাসানের ৭ উইকেটে ওরচেস্টারশায়ারকে হারাল কেন্ট
ইংলিশ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে কেন্টকে জয় এনে দিয়েছেন বাংলাদেশের ডানহাতি পেসার হাসান মাহমুদ। ওরচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৭ উইকেট…
মেলবোর্ন, ২৪ আগষ্ট- বাংলাদেশে বহুল প্রতীক্ষিত আন্তর্জাতিক অনলাইন পেমেন্ট সেবা পেপাল চালুর উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। পেপাল, গুগল ওয়ালেট, পেওনিয়ার ও ওয়াইজসহ বৈশ্বিক ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে অংশীদারত্বের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দেশের কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকও পেপালের সঙ্গে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে যোগাযোগ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সূত্র জানিয়েছে, পেপাল বর্তমানে বাংলাদেশের বাজার নিয়ে তাদের নীতিমালা পর্যালোচনা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল পেমেন্ট অপারেটরদের সঙ্গে দেশের ব্যাংকগুলোর অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করতে নতুন কাঠামো চালু করেছে। এর আওতায় ব্যাংকগুলো বৈদেশিক মুদ্রায় ডিজিটাল ভ্যালু অ্যাকাউন্ট বা ডিভিএ খুলতে পারবে। এর মাধ্যমে গ্রাহকেরা আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে সীমান্তপারের অর্থ লেনদেন করতে পারবেন। এতে ফ্রিল্যান্সারদের অনলাইন কাজের আয় গ্রহণ এবং বৈধভাবে বিদেশে বিভিন্ন ধরনের অর্থ পরিশোধের সুযোগ বাড়বে।
গত ২৯ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক ডলার ওয়ালেট চালুর কাঠামো নিয়ে সার্কুলার জারির পর কয়েকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক পেপাল, গুগল ওয়ালেট ও পেওনিয়ারসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্ভাব্য অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে। ব্যাংকগুলো নতুন কাঠামোর আওতায় কী ধরনের পণ্য চালু করা যায় এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে কীভাবে কাজ করা সম্ভব, তা যাচাই করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বেশি উপকৃত হতে পারেন ফ্রিল্যান্সাররা। বর্তমানে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সেবার মাধ্যমে বছরে ৫০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে আসে। তবে ফ্রিল্যান্সিংয়ের বড় একটি অংশ এখনো অনানুষ্ঠানিক পথে লেনদেন হওয়ায় সম্ভাব্য বাজার প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের হতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
তবে সুযোগ শুধু ফ্রিল্যান্সিংয়ে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ভ্রমণ, চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়া, অনলাইন পেমেন্ট এবং বিদেশে শিক্ষার্থীদের ফি পরিশোধের ক্ষেত্রেও নতুন ব্যবস্থার সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক কিছু সিদ্ধান্তে এসব খাতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের নিয়মও শিথিল করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত ভ্রমণের ক্ষেত্রে বর্তমানে বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা ১২ হাজার ডলার। বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবার সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত আলাদা সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। নতুন ডলার ওয়ালেট ব্যবস্থার ফলে এসব অর্থ ব্যবহারে নগদ অর্থ বহনের ওপর নির্ভরতা কমতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা মনে করছেন, দেশে অর্থ গ্রহণের পাশাপাশি বিদেশে অর্থ পাঠানোর সুযোগও তৈরি হওয়ায় আন্তর্জাতিক পেমেন্ট কোম্পানিগুলোর কাছে বাংলাদেশের বাজার আগের তুলনায় বেশি আকর্ষণীয় হয়েছে।
বিডিজবস ডটকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম ফাহিম মাশরুর বলেন, ফ্রিল্যান্সারদের জন্য পেপাল এখন আর একমাত্র ভরসা নয়। পেওনিয়ার, ওয়াইজসহ বিভিন্ন বিকল্প প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। তবে অনেক আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্ট এখনো পেপাল ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিশেষ করে ক্রেতা সুরক্ষা ও নিরাপত্তার কারণে পেপালের প্রতি তাদের আস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশে পেপাল চালুর আলোচনা অবশ্য নতুন নয়। একেএম ফাহিম মাশরুর জানান, ২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি থাকাকালে পেপালের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়েছিল। ওই বছর পেপালের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমানসহ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে।
সে সময় পেপালের কিছু আইনি ও নিয়ন্ত্রক উদ্বেগ ছিল। পরে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু বিষয়ে সার্কুলারও জারি করে। কিন্তু ২০১৪ সালে পেপালের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশসহ কয়েকটি উন্নয়নশীল দেশের বাজারে প্রবেশের পরিকল্পনা থেকে প্রতিষ্ঠানটি সরে যায়।
এরপর কয়েক বছর তেমন অগ্রগতি হয়নি। ২০২৪ সালের পর পেপাল বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি বাজার নিয়ে আবারও মূল্যায়ন শুরু করে। বাংলাদেশ ব্যাংকও নতুন করে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যোগাযোগ করে। ২০২৫ সালে পেপালের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সফর করেছিলেন বলেও জানান মাশরুর।
তার মতে, বাংলাদেশে পেপাল চালুর ক্ষেত্রে বড় কোনো প্রযুক্তিগত বা আইনি বাধা নেই। দেশের ব্যাংকগুলো ইতোমধ্যে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মতো আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে। ফলে মূল সিদ্ধান্তটি এখন পেপালের নিজস্ব নীতিগত ও ব্যবসায়িক বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে।
এদিকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো সম্ভাব্য অংশীদারদের নিয়ে ঝুঁকি মূল্যায়নও করছে। একটি বেসরকারি ব্যাংকের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, পেপালের পাশাপাশি গুগল পে, গুগল ওয়ালেট, পেওনিয়ার ও ওয়াইজের মতো প্রতিষ্ঠানও সম্ভাব্য অংশীদার হতে পারে। তবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকি, নিরাপত্তা এবং অর্থ নিষ্পত্তির কাঠামো আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।
বাংলাদেশের অনেক ফ্রিল্যান্সার বর্তমানে পেওনিয়ার, পেপাল, ওয়াইজসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে আয় জমা রাখেন। নতুন ডলার ওয়ালেট কাঠামো আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কার্যকর হলে এসব অর্থ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আনার সুযোগ আরও সহজ হতে পারে।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলার পেপালকে বাংলাদেশে আসতে বাধ্য করছে না। এটি শুধু প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামো ও বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করেছে। এখন বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত পেপালকেই নিতে হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au