৫৭ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে দিলেন সূর্যবংশী
মাত্র ১৫ বছর বয়সেই ক্রিকেটে একের পর এক রেকর্ড গড়ছেন ভারতের তরুণ ব্যাটার বৈভব সূর্যবংশী। এবার দুলীপ ট্রফির ইতিহাসে ৫৭ বছর ধরে টিকে থাকা সবচেয়ে…
রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর পরিবারের চার সদস্যকে হত্যার ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে প্রায় ১৫ লাখ টাকার একটি হিসাব। হত্যাকাণ্ডের মাত্র ২২ দিন আগে গণপতি চক্রবর্তী তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেছিলেন। তবে হত্যার পর সেই টাকা কোথায় গেছে, তা এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ।
রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যার ঘটনা ঘটে গত ২১ আগস্ট নগরীর মাচুপাড়া এলাকায়। পুলিশ ও রংপুর ট্রেজারি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গণপতির প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে ১৪ লাখ ৯২ হাজার ৪৪৪ টাকার একটি বিল ৩০ জুলাই অনুমোদন হয়। এর এক-দুই দিনের মধ্যে তিনি ওই টাকার চেক সংগ্রহ করেন বলে জানা গেছে।
গণপতি চক্রবর্তী ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জেলা স্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসর নেন। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ জানান, প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা কেন তুলছেন জানতে চাইলে গণপতি জানিয়েছিলেন, বাড়ির নিচতলার অসম্পূর্ণ নির্মাণকাজ শেষ করতে তিনি এই অর্থ ব্যয় করবেন। পাশাপাশি তাঁর মেয়ে আগমী চক্রবর্তীর বিয়ের বিষয়েও পরিবারের মধ্যে আলোচনা চলছিল বলে জানিয়েছিলেন তিনি।
গণপতির ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তীর জামাতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী জানান, পরিবারের সদস্যরা বাড়িটির প্রথম তলায় বসবাস করতেন এবং নিচতলার নির্মাণকাজ তখনো শেষ হয়নি। তাই ওই কাজ সম্পন্ন করার জন্য গণপতি টাকা তুলেছিলেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।
তবে পুলিশ এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি, গণপতি চক্রবর্তী ওই চেকের টাকা নগদ করেছিলেন কি না, কিংবা কোনো ব্যাংক হিসাবে জমা বা স্থানান্তর করেছিলেন কি না। রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, টাকা কোথায় গেছে তা এখনো জানা যায়নি। তবে পুলিশ অর্থের গতিপথ অনুসন্ধান করছে।
পুলিশের দাবি, মামলার আসামি সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধা দাস প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জানিয়েছেন, তারা ওই বাড়ি থেকে মাত্র ১৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তবে প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ১৫ লাখ টাকা সম্পর্কে তাদের বক্তব্যে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
গত ২১ আগস্ট ভোর ৬টার দিকে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগমী চক্রবর্তী এবং ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তীকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। নিহত গণপতির বয়স ছিল ৬৫ বছর, প্রীতিলতার ৫০, আগমীর ২৫ এবং আয়ুষের বয়স ১২ বছর। আয়ুষ রংপুর জেলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
২২ আগস্ট রাতে গণপতির বাড়ি থেকে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে গণপতির বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। ওই দিনই পুলিশ মুগ্ধা দাস (২১) ও তাঁর চাচাতো ভাই সিদ্ধার্থ দাসকে (১৯) গ্রেপ্তার করে। পরে দুজনই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ির ছাদে ইয়াবা সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী তাদের দেখে ফেলায় ক্ষুব্ধ হয়ে দুই আসামি এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। তবে প্রভিডেন্ট ফান্ডের প্রায় ১৫ লাখ টাকা হত্যার সঙ্গে কোনোভাবে সম্পর্কিত কি না, কিংবা ওই অর্থ শেষ পর্যন্ত কোথায় গেছে, তা এখনো তদন্তাধীন। এ বিষয়ে আসামিদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au