শিশু আছিয়া ধর্ষণ-হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল
মাগুরার আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। সোমবার (৩১ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে…
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে রুশ ড্রোন হামলার পর একটি গোলাবারুদ গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবারের ওই হামলায় মিলা গ্রামসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোববারও ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালানো হয়।
হামলার সময় মিলা গ্রামের বাসিন্দা ৪৮ বছর বয়সী উদ্যোক্তা লিউদমিলা পলিয়ানিচকো মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে ছিলেন। তিনি জানান, একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পর হঠাৎ ঘরের জানালার কাচ ভেঙে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। মেয়েকে নিয়ে বাথরুমে আশ্রয় নেওয়ার সময় তাদের ওপর একটি দেয়াল ভেঙে পড়ে। প্রাণে বেঁচে যাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বেঁচে আছি। এ জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।’
লিউদমিলা পলিয়ানিচকোর বাড়ির উঠানে এখনো পোড়া গোলার খোসা ও গুলির বিভিন্ন অংশ পড়ে রয়েছে। তার মেয়ের ঘরও ধ্বংস হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তাদের বাড়ির কাছেই একটি গোলাবারুদের গুদাম ছিল, কিন্তু সেখানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম রাখা ছিল বলে তারা জানতেন না।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, মিলা গ্রামের একটি সামরিক স্থাপনায় থাকা ওই গুদামে গোলার খোসা, মাইন, ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের গোলাবারুদ রাখা ছিল। রুশ ড্রোন হামলার পর সেখানে আগুন ধরে যায় এবং একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটতে থাকে। এতে আশপাশের এলাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ঘটনার জন্য সরকারি অবহেলাকে দায়ী করেছেন। বেসামরিক মানুষের বসতির কাছে এভাবে গোলাবারুদ সংরক্ষণ করাকে তিনি ‘অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে।
গত দুই মাসের মধ্যে কিয়েভ অঞ্চলের কোনো গোলাবারুদ গুদামে এটি দ্বিতীয় হামলা, যার পর বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটল। রোববারও চারজন নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছিল। বেশির ভাগ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসাবশেষ ও দূষণ থাকায় পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাশিয়ার বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। টানা চার দিন ধরে কিয়েভ ও আশপাশের শহরগুলোতে ড্রোন হামলার কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থাপনা ও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জেলেনস্কির ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে রাশিয়া ইউক্রেনে প্রায় দুই হাজার হামলাকারী ড্রোন, এক হাজার ৬০০টির বেশি বোমা এবং ৩১টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। রাশিয়ার প্রতিটি হামলার জবাব দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au