নেপালের সেই সুড়ঙ্গে আর কেউ বেঁচে নেই:কাদায় চাপা পড়েছে সব, ভেঙেছে ছাদও
নেপালের ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের যে সুড়ঙ্গ থেকে শুক্রবার দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে আর কেউ বেঁচে নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সুড়ঙ্গের শেষ…
বিশ্বের প্রচলিত মানচিত্রে আফ্রিকার আয়তন বাস্তবের তুলনায় ছোট করে দেখানোর দীর্ঘদিনের সমালোচনার মধ্যে ‘ইকুয়াল আর্থ’ নামে নতুন ধরনের বিশ্ব মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। শুক্রবার অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটির পক্ষে ১৬৪টি দেশ ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় একমাত্র যুক্তরাষ্ট্র। ছয়টি দেশ ভোটদানে বিরত ছিল।
আফ্রিকার দেশগুলোর উদ্যোগে উত্থাপিত প্রস্তাবটির নেতৃত্ব দেয় টোগো। এতে ষোড়শ শতাব্দী থেকে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত ‘মারকেটর’ মানচিত্রের পরিবর্তে এমন মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন মহাদেশের প্রকৃত আয়তনের তুলনামূলক চিত্র আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।
মারকেটর মানচিত্রে পৃথিবীর গোলাকার আকৃতিকে সমতল পৃষ্ঠে দেখানোর কারণে মেরুর কাছাকাছি থাকা অঞ্চলগুলো বাস্তবের তুলনায় অনেক বড় দেখায়। এর ফলে গ্রিনল্যান্ডকে প্রায় আফ্রিকার সমান আয়তনের মনে হতে পারে। অথচ বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে প্রায় ১৪ গুণ বড়।
আফ্রিকার দেশগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই মানচিত্রের কারণে বিশ্বের মানুষের মধ্যে আফ্রিকাকে তুলনামূলকভাবে ছোট ও প্রান্তিক একটি অঞ্চল হিসেবে দেখার ধারণা তৈরি হয়েছে। ভোটের আগে রয়টার্সকে টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসেই বলেন, একটি ন্যায্য মানচিত্রের মাধ্যমে ন্যায্য বিশ্বের ধারণা শুরু হতে পারে।
তবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অনুমোদিত প্রস্তাবটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। টোগোর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সমুদ্র ও আকাশপথে নেভিগেশনের মতো কাজে প্রচলিত মারকেটর মানচিত্র ব্যবহারে এই প্রস্তাব কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না। কারণ এসব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রযুক্তিগত কারণে মারকেটর প্রক্ষেপণ এখনো কার্যকর।
প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে যুক্তরাষ্ট্র এটিকে একটি ‘আদর্শিক এজেন্ডা’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। দেশটির মতে, এ ধরনের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক শান্তি, সমৃদ্ধি ও সুসম্পর্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ বাস্তব সমস্যা থেকে বিশ্বের মনোযোগ সরিয়ে দিতে পারে।
জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুমোদনের পর টোগো জানিয়েছে, দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দ্রুত নতুন মানচিত্র চালু করা হবে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্কুলের ভূগোলের বই ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণে ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসেই বলেন, ভূগোলের বইয়ে নতুন মানচিত্র ব্যবহার করা প্রথম দেশ হবে টোগো। শ্রেণিকক্ষে মানচিত্র পরিবর্তনের মাধ্যমে অন্য দেশগুলোকেও একই উদ্যোগ নিতে উৎসাহিত করতে চায় দেশটি।
টোগো সরকার বিভিন্ন দেশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও প্রযুক্তি কোম্পানিকে কয়েক শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত মারকেটর মানচিত্রের পরিবর্তে ‘ইকুয়াল আর্থ’ মানচিত্র ব্যবহারে উৎসাহিত করার পরিকল্পনা করছে। আগামী ছয় মাসে আফ্রিকান ইউনিয়নের সদস্যদেশ এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের সমর্থকদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠক করার কথাও জানিয়েছে দেশটি।
এসব আলোচনায় মানচিত্র, জিপিএস ও অন্যান্য অবস্থানভিত্তিক প্রযুক্তি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকেও যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
টোগোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট দুসেই এই উদ্যোগকে আফ্রিকার ঔপনিবেশিক আমলের উত্তরাধিকার মোকাবিলার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, এই পদক্ষেপ ইউরোপ বা অন্য কোনো সভ্যতার বিরুদ্ধে নয়।
দুসেইয়ের মতে, কয়েক শতাব্দী ধরে মারকেটর মানচিত্রের আধিপত্যের পেছনে ঔপনিবেশিক ইতিহাসেরও প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্ব বদলে যাচ্ছে, একই সঙ্গে বদলে যাচ্ছে আফ্রিকাও।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au